জ্বালানি সংকটে রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের মাঝে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবারহ না করায় এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে বনায়নের ওপর। পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংস্থার হিসেব অনুযায়ী জ্বালানি কাঠের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিনই রোহিঙ্গারা ব্যবহার করছে ৭’শ ৫০ মেট্রিক টন বনের গাছ। এতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা তাদের। তবে সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি তাদের জন্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এই সব রোহিঙ্গা পাহাড় ও গাছপালা কেটে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায়। আর তাদের চাল ডালসহ নিত্যপূন্য ত্রাণসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করছেন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান।

 

কিন্তু রোহিঙ্গাদের গৃহস্থালি রান্না রান্নায় জ্বালানী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়তই প্রভাব পড়ছে বনায়নের উপর । প্রতিদিনই জ্বালানি হিসেবে গাছপালা কেটে ধ্বংস করায় ফুটে উঠেছে ন্যাড়া পাহাড়।

রোহিঙ্গাদের এক জানান, ‘জঙ্গল থেকে অনেক কষ্ট করে লাকড়ি সংগ্রহ করে এনে রান্না করে খাই।’

অন্য আরেকজন জানান, ‘আমরা বার্মা থেকে এসেছি। আমাদের খাবারের দিলেও রান্নার ব্যবস্থা নেই এখানে।’

রোহিঙ্গা যেভাবে বন উজাড় করছে; এতে মারাত্মক পরিবেশের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের এই নেতা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন,’ এদের জ্বালানিসহ অন্য নির্মাণকাজের জন্য যদি বিকপ্ল ব্যবস্থা না নেয়া হয়। তাহলে দেখা যাবে আমাদের বনাঞ্চলও শেষ। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিবে।’

 

আর সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি তাদের জন্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসন।

কক্সবাজারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো.আলী কবির বলেন, রোহিঙ্গা সাড়ে চার হাজারের বেশি বনভূমি এইতোমধ্যে তারা দখল করেছে। আর বিষয়টি আমাদের উপরের লেভেলের কাছে জানানো হয়েছে এবং ট্রিপল আরসিকেও জানানো হয়েছে।

কক্সবাজার উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান বলেন, বিকল্প জ্বালানি হিসেবে তাদেরকে চারকল প্রদান করা শুরু করেছি।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দেয়া তথ্য মতে মিয়ানমার রখাইনরাজ্যে থেকে আশা রোহিঙ্গা আশ্রয় দিতে গিয়ে চারশ কোটির টাকার গাছ কাটা হয়েছে।

your add hare

Comments are closed.

     আরো খবর

Our Like Page