সরিষার ফুলে ভরে গেছে কৃষকের মাঠে

কুষ্টিয়ার বিস্তৃর্ণ মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে চোখ ধাঁধানো সবুজের ফাঁকে হলুদের সমাহার। হলুদ ফুলে ফুলে ভরে আছে বেশীরভাগ ক্ষেত। ফুলের মৌ মৌ গন্ধ সুবাস ছড়াচ্ছে পুরো এলাকা। আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ সকল প্রকৃতি প্রেমিককে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলন ভাল হবে বলে আশা করছেন,কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলায় এবছ সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। কৃষি অফিসাররা সরিষা চাষিদের সময়মত সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন বলে ও জানা চাষীরা।

এদিকে চাষিরা তাদের সরিষার ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসময় সরিষার ক্ষেতে বিভিন্ন পোকা-মাকড়, রোগ বালাই বেশি দেখা দেয়। তাই কৃষি অফিসারদের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়তি পরিচর্যা করছে সরিষা চাষিরা। যাতে তাদের কষ্টের কাংখিত ফসল ঠিকঠাক মত ঘরে তুলতে পারে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জামাল হাসান,আজিবর, করিম শাহ,আলীমদ্দীন জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে, অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

এছাড়া নিয়মিত সরিষার ফসলে রোগ-বালাই দমনের জন্য কীটনাশক স্প্রেকরা হচ্ছে। জেলা,উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ হতে সার্বক্ষনিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে।

সরিজমিন ঘুরে দেখা যায় উপজেলার খাল বিলে সরিষার ফুলে ফুলে ও মৌ মৌ গন্ধে ভরে
উঠেছে ভেড়ামারা, মিরপুর, দৌলতপুর, খোকসা, কুমারখালী অনেক জায়গায়। সরিষার ফুলে ফুলে হলুদ বর্ণের বর্ণিল হওয়ায় বিল গুলোতে ও জমির আশে পাশে দুর দুরান্ত থেকে স্কুল কলেজের সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকরা বেড়াতে আসছেন। আবার সরিষার ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার জন্য অনেক তরুণ-তরুণীরা ক্যামারা ও ভিডিও মাধ্যমে নিজের ছবির সাথে সরিষার ফুলের ছবি ধরে রাখছে। কখনো কখনো সরিষার ক্ষেতে বসছে পোকাখাদক বুলবুলি ও শালিকের ঝাঁক। সরিষা ফুলের শোভা আরো বাড়িয়ে তুলেছে অসংখ্য মৌমাছির দল। গুণগুনিয়ে মধু আহরণে ব্যস্ত তারা।

উপ পরিচালক বিনয় কৃষ্ণন দেবনাথ দেয়া তথ্য অনুযায়ী এবছর কুষ্টিয়া জেলায় মোট ৪হাজার ৩২০হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে।তার মধ্যে কুষ্টিয়া
সদর-১৫শ’৩০হেক্টর,খোকসা-১শ’৩০ হেক্টর, কুমারখালী -৬শ’৪০হেক্টর, মিরপুর-৫শ’৫০হেক্টর, ভেড়ামারা-২শ’৫০ হেক্টর,দৌলতপুর- ১২শ’২০হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভেড়ামারা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানান,ভেড়ামারা উপজেলাতেও সরিষার হলুদ ফুলে
ভরে গেছে মাঠ। এ বছর অনেকেই আগাম সরিষা চাষ করেছেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছে এ অঞ্চলের কৃষকরা।
তিনি আরো বলেন, সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেল-ই তৈরী করে না। এই সরিষা ভাঙ্গিয়ে খৈল ও
গাছ থেকে ভূষি তৈরী হয় যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বারি-১৪ জাতের সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরনের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন। এছাড়া কৃষকরা নিয়মিত  সরিষার ফসলে রোগ-বালাই দমনের জন্য কীটনাশক স্প্রে করে চলছেন। পাশাপাশি তিনি সরিষার ফলন ভাল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

your add hare

Comments are closed.

     আরো খবর

Our Like Page