রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে তুরস্ক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

মঙ্গলবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৬০ শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ওয়ার্ডের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনআলী ইলদ্রিম ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী যৌথভাবে এই ক্যান্সার ওয়ার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

 

এসময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দেব্রিন অজস্তুর্ক এবং স্বাস্থ্যসচিব (সেবা) সিরাজুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। এই ৬০ শয্যাবিশিষ্ট এসি ওয়ার্ডটির উদ্বোধন করা হয়েছে। এখানে ক্যান্সার আক্রান্তরা চিকিৎসাসেবা পাবেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১৬ সালে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত একটি অ্যাম্বুলেন্সও প্রদান করেছে।

 

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় নিজস্ব অর্থায়নে ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেছে। আরও দশটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

টার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকা) সহযোগিতা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে তুরস্ক সরকারের আর্থিক অনুদানে ২০১৬ সালে হাসপাতালের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর-পশ্চিম দিকে ক্যান্সার রোগীদের জন্য ‘টার্কিশ-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ’ ওয়ার্ড নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, জনগণের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ও তাদের সরকারি হাসপাতালমুখী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজকের এই ক্যান্সার ওয়ার্ডটি একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

তিনি বলেন, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সাররোগীদের রেডিওথেরাপির জন্য একটি কোবাল্ট মেশিন প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, এই এসি ওয়ার্ডে ৬টি বেডে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা ডে-কেয়ার সুবিধায় কেমোথেরাপি নিতে পারবেন। অন্য ৪৫টি বেডে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাবেন।

এই ওয়ার্ড চালুর মধ্য দিয়ে ক্যান্সাররোগীদের চিকিৎসাসেবা আরো সুনিশ্চিত হলো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তুরস্ক সরকারের উদ্যোগে ‘টিকা’ প্রায় ১০ কোটি টাকার কন্সট্রাকশন সহযোগিতা এবং ইকুইপমেন্ট দিয়ে এই অত্যাধুনিক ৬০ শয্যার ক্যান্সার ওয়ার্ডটি নির্মাণে সহযোগিতা করেছে। হাসপাতালের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর-পশ্চিম দিকে ক্যান্সার রোগীদের জন্য এ ওয়ার্ড। এখানে ৬টি বেডে ক্যান্সার রোগীদের জন্য ডে-কেয়ার (যারা কেমোথেরাপি সুবিধা নিতে পারবেন) ব্যবস্থা রয়েছে। অন্য ৪৫টি বেডে ক্যান্সাররোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পাবেন। এ ওয়ার্ডে ক্যান্সার সচেতনতার জন্য রয়েছে অটো ডিসপ্লে সেন্টার। রোগীদের মানসিক প্রশান্তির জন্য করিডোর লাগোয়া বাগানও রয়েছে।

your add hare

Comments are closed.

     আরো খবর

Our Like Page