সংসদে ইসি আইনের বিরোধিতা বিএনপির

জাতীয় সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ বিল-২০২২ উপস্থাপনের বিরোধিতা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি দলীয় এমপি হারুনুর রশিদ। তবে তার বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে এই আইন হলে কারচুপির পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যার জন্য বিএনপির গাত্রদাহ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) আইনমন্ত্রী প্রধান সিইসি এবং ইসি নিয়োগ বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব করলে বিএনপির এমপি হারুনুর রশিদ এর বিরোধিতা করেন। এ সময় আইনমন্ত্রী বিলের বিষয়ে ব্যাখা দেন। পরে বিলটি উপস্থাপিত হয় এবং সেটি ৭ দিনের মধ্য রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলটি সংসদে ওঠানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিএনপির হারুনুর রশিদ বলেন, যে বিলটি উপস্থাপন করা হয়েছে সেটা জনগণের, এদেশে রাজনৈতিক দল ও সুধী সমাজের যে প্রত্যাশা তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমরা দীর্ঘদিন দিন ধরে, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য একটি আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে আসছিলাম। আজকে আইনমন্ত্রী যে বিলটি উত্থাপন করেছেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলা হয়েছে- ‘যাহা লাউ তাহাই কদু’।

অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে বলতে চাই- সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিগত যে দুটি নির্বাচন কমিশন, নকিব ও হুদা কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে এত প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। হারুন বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৬ সালে বলেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। ১৯৯৫-৯৬ সালে দীর্ঘ ১৭২ দিন হরতালের মধ্যদিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী সেই সময় দাবি করেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছাড়া কোনো নির্বাচনে যাবেন না। বর্তমান সার্চ কমিটির মধ্য দিয়ে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে মেয়াদ শেষ হবে।

ওনাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস ও দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে তার জন্য ওনাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা খুবই জরুরি। আজকে যে আইনটি তোলা হয়েছে তাতে ধরে নিতে পারি ইতোপূর্বে সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত দুটি কমিশনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য আনা হয়েছে। এখানে নতুনত্ব কিছু নেই। ইতোপূর্বে যে কমিশন গঠিত হয়েছে তার অনুরূপ বিল এখানে তোলা হয়েছে। এই আইনটি প্রশ্নবিদ্ধ। এই আইন দিয়ে বর্তমান সঙ্কটের নিরসন হবে না। সঙ্কট থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব না।

আমি দাবি করব- আইনটি প্রত্যাহার করুন। আইনমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছিলেন এরকম একটি আইন তৈরির জন্য রাজনৈতিক দল ও সুধীসমাজের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এই কথা বলার পর তিনি কী করে এই আইনটি আনেন। এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং হারুনের বক্তব্যের খণ্ডন করে তার বক্তব্য রাখেন।

খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারা পড়ে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, ওনাদের ইতিহাস বলতে হয়। নিজেরা নিজেরা নির্বাচনে জয়লাভের জন্য যতরকম কারসাজি- বিচারপতি আজিজ সাহেবকে দিয়ে কমিশন গঠন, এক কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার তৈরি, একজন ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য বিচারকদের বয়স ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ করেছিলেন। এটা ওনারা কার সঙ্গে আলোচনা করে করেছিলেন? ওনারা এখানে বসে নিজেরা নিজেরা করে ফেলেছিলেন।

ওনারা কারো সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন মনে করেননি। কারচুপি করে ক্ষমতায় আসার জন্য ওনারা নিরবচ্ছিন্ন নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। মানে নিরবচ্ছিন্ন কারচুপি করে ক্ষমতায় আসার জন্য এটা করেছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন করতে হবে। আমরা সেই আইন করেছি। ওনারা বুঝে বলুক, না বুঝে বলুক, বলছেন এটা সার্চ কমিটির আইন। ওনারা বলছেন আইনটা আমরা ঠিক করিনি। ওনাদের সঙ্গে আলোচনা করিনি।

কিছু দিন আগে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এই আইনের জন্য একটি খসড়া আমার কাছে দিয়েছিলেন। তখন আমি বলেছিলাম কোভিডের কারণে হয়তো এটি নাও করা যেতে পারে। তখন ওনারা বলেছিলেন, অধ্যাদেশ করে হলেও করতে হবে। আমি বলেছিলাম এই আইন সংসদে না এনে করা ঠিক হবে না। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সংসদে তার পরে করা উচিত।

তিনি বলেন, আইন না থাকায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সব রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দিয়ে তাদের মতামত নেন। তখন একটি কনসেসাস হয়েছিল। সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপরেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তখন ওনাদের আপত্তি ছিল না। এখন এটি আইনের আওতায় আনার জন্য এই বিলটি আনা হয়েছে, সেটি ওনারা না পড়ে আপত্তি করছেন।

উইদাউট প্রেজুডিস বলছি, যদি কোনো নির্বাচন কমিশনার কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে কী তাকে এই আইনের নয় দফায় দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে? রাষ্ট্রপতি যে দুবার সার্চ কমিটি করেছেন, সেটাও আইনসিদ্ধ ছিল। সেটাও আইনের আওতায় আনা হল। এটা কনসেনশাসের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। ওনাদের কথা হচ্ছে, যা করেন করেন, তালগাছ আমার। তালগাছ ওনাদের না। তালগাছ জনগণের। ওনারা না বুঝে বলছেন। আইনটা যখন করে ফেললাম পালের হাওয়া চলে গেছে। বলছেন এটা নেই, ওটা নেই।

ওনারা তো অনেক আন্দোলনের কথা বলেছেন, আন্দোলনের পালে হাওয়া লাগেনি, এবারও সেটা হবে না। আইনমন্ত্রী বলেন, ওনারা বিচারের কথা বলেছেন। আগে আজিজ সাহেবের (সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার) করতে হবে। এক কোটি ৩০ লাখ ভুয়া ভোটার করার বিচার করতে হবে। এই আইন হলে ওনারা আর ভোট চুরি করতে পারবেন না, এটা তারা বুঝে গেছেন। এজন্য তাদের গাত্রদাহ। তাদের এগুলো ধর্তব্যে নিলে ওনারা বাংলাদেশকে যে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে চেয়েছিল সেটাই হবে।

সুত্রঃ সোনালীনিউজ

Back to top button