হিজাব পরায় ক্লাস থেকে ছাত্রীদের বের করে দিলেন শিক্ষক

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্ণাটক রাজ্যের উদুপি জেলার একটি সরকারি কলেজের ছয়জন মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরায় ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২২ জানুয়ারি) বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। এ বিষয়ে ওই কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা শুধু ক্লাস চলাকালীন ছাত্রীদের হিজাব খুলে রাখতে বলেছে।

এছাড়া ক্লাসের বাইরে যেকোন স্থানে তারা হিজাব পরে থাকতে পারবে। ভুক্তভোগী ছয় ছাত্রীর একজনের নাম আলমাস। তিনি জানান, ক্লাসে আমাদের কয়েকজন পুরুষ শিক্ষক আছেন। তাদের সামনে আমাদের চূল ঢেকে রাখা দরকার। সেজন্য আমরা ক্লাসে হিজাব পরি। এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কলেজে অচলাবস্থা সৃষ্টির পেছনে কট্টরপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার ছাত্র শাখা ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (সিএফআই) দায়ী।

ছাত্রীদের এই ঘটনায় তারা জড়িয়ে পরায় বিষয়টি জটিল হয়ে গেছে। তবে আলমাস জানিয়েছে, তিনি সিএফআই এর কোনো সদস্য নন। তবে হিজাব পরতে না দেয়ায় তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ রুদ্র গৌড়া অভিযোগ করে বলেন, ওই ছয় ছাত্রী ইচ্ছকৃতভাবে এই সমস্যা সৃষ্টি করেছেন।

কলেজে আরও ৭০ জন মুসলিম শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের এই সিদ্ধান্তে কোনো আপত্তি নেই। তিনি আরো বলেন, এর আগে আমাদের কলেজের প্রায় ১২ জন ছাত্রী হিজাব পরার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে তাদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলার পর এই সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে।

রুদ্র গৌড়া বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন কোনো বৈষম্য তৈরি না হয় সেজন্য কলেজে ইউনিফর্মের প্রচলন। এছাড়া ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীদের চেহারা দেখাটাও জরুরি বলে জানান তিনি। সার্বিক বিষয়ে কর্ণাটক রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেশ জানান, সামনে আমাদের নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক শাখা জলঘোলা করতে চাইছে।

সুত্রঃ বিবিসি

Back to top button