পরকীয়ায় বাধা,অতপর স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা

সম্প্রতি খাগড়াছড়ীর রামগড়ে মা-মেয়েকে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন ও আসামী মো. সোলেমান হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। যৌতুকের টাকা না পেয়ে পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেয়ায় নিজের স্ত্রী ও চার মাসের কন্যা সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেন সোলেমান।

গত সোমবার রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুরে মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান সংস্থাটির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ভিক্টিম পিংকির বাবা আব্দুল খালেক দুলাল বাদী হয়ে রামগড় থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হয়। সিআইডি জানায়, ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে সোলেমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, গ্রেপ্তার সোলেমান গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। পরে ২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে তার সঙ্গে পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর সোলেমান গ্রামের বাড়িতে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

তাদের ১০ বছরের সংসারে ফারিয়া সুলতানা (৫) ও সালমা আক্তার জান্নাত (৪ মাস) নামে দুই কন্যা সন্তান ছিল। সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, পিংকিদের পারিবারিক অবস্থা ভালো হওয়ায় সম্প্রতি সোলেমান হোসেন কাজ না করে মোটা অংকের যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন পিংকিকে। একপর্যায়ে পিংকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোলেমান পার্শ্ববর্তী এলাকার এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর স্ত্রী পরকীয়া থেকে সোলেমানকে সরে আসার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত ধারালো দা দিয়ে প্রথমে পিংকিকে এবং পরে চার মাস বয়সী শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেন সোলেমান।

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, গলা কেটে হত্যার পর কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে ঘরের মেঝেতে রেখে তালা দিয়ে পালিয়ে যান সোলেমান। এই হত্যাকাণ্ডে তিনি শুধু জড়িত ছিলেন বলেও জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

Back to top button