আন্দোলনের ছক কষছে বিএনপি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আন্দোলনের ছক কষছে বিএনপি। এজন্য দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে লিখিত মতামত নিচ্ছে দলের হাই কমান্ড। এই মতামত নিয়ে প্রথমে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করবেন। সেটা চূড়ান্ত করে তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবেন।

পর্যালোচনা করার পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেবেন- সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটি রাজপথের আন্দোলনে নামবে বলে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, বিভিন্ন দফা, দাবি ও জাতীয় ইস্যুসহ জনগণের দাবি নিয়ে বিএনপি এবার রাজপথে নামবে। এজন্য ছক কষে ও পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে বিএনপি।

এখানে অপরিকল্পিতভাবে কিছুই করবে তারা। এজন্য ইতোমধ্যে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে লিখিত মতামত নিয়েছে দলটি। আন্দোলন ও বিএনপির কর্ম-পরিকল্পনা নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তিনজন সম্পাদকের সঙ্গে বাংলাদেশ জার্নালের কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই তিন নেতা বলেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটি সমস্ত দাবি, জাতীয় ও জনগণের ইস্যুসহ সকল বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে সেটি লিখিত আকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে দিয়েছেন।

এখন বিষয়টি নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সেটা তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেবেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পর্যালোচনার পর সেবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির আন্দোলনের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আগামী নির্বাচন বলে কোনো কথা নেই।

আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আমরা এখনো আছি। আর এই আন্দোলন চলমান রয়েছে। এদিকে গত ২২ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে প্রথম ধাপে ২৩ জেলায় সমাবেশ করেছে বিএনপি।

ঘোষিত এ সমাবেশের মধ্যে সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন সমাবেশে হামলা, গুলিবর্ষণ এবং কক্সবাজার ও ফেনীসহ কয়েকটিতে ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা ভঙ্গ করে নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এরআগে একই দাবিতে বিএনপি গণঅনশন, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, সমাবেশ এবং মানববন্ধনের কর্মসূচিও করেছে। পরে ৮ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেয়ার অনুমতির দাবিতে দেশের আরো ৪০ জেলায় সমাবেশের ঘোষণা করে বিএনপির।

এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৮টি জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার উন্মুক্ত স্থানে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর এই কর্মসূচি পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। আর এখন পর্যন্ত সমাবেশের নতুন কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি। ঘোষিত এসব কর্মসূচিতে জনস্রোতকে সরকার পতনের আন্দোলনের বলেই অ্যাখায়িত করেছে বিএনপি।

দলটি বলছে, কর্মসূচিতে মধ্য দিয়ে দাবি আদায়ের যে প্রক্রিয়া বিএনপি শুরু করেছে, তাতে সরকার ভীত হয়ে পড়েছে। ভিত হয়ে এসব কর্মসূচি বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা সাময়িক ব্যাপার। বেশিদিন থাকবে না। এই ওমিক্রনটাকে আমাদের সরাতে হবে।

যখনই আমরা এগোতে চাই, তখনই করোনাভাইরাস এসে হাজির হয়! এটাকে অতিক্রম করা শুরু করতে হবে। আর সত্যিকার অর্থে আমরা সবাই খুব আশাবাদী হয়ে উঠেছি। কারণ বিএনপির গত সমাবেশগুলোতে জনগণ বেরিয়ে আসছে এবং বেরিয়ে আসবে। এখন সঠিক সময় এবং সঠিকভাবে ওই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে আসতে হবে।

এবিষয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে সারাদেশে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো অর্ধেক আমরা করেছি। আর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাকিগুলো করা হবে। সেটা না হলে আমরা আলোচনা করে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

সুত্রঃ বাংলাদেশ জার্নাল

Back to top button