গোটা বিশ্বকে নাচানো এক আইসক্রিম বিক্রেতার গল্প, কে এই ব্যক্তি

ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে চলছে বাণিজ্য মেলা। বাণিজ্য মেলায় কেনাকাটা ও ঘুরতে গিয়েই হঠাৎ থমকে যেতে হচ্ছে। কেননা আইসক্রিম পার্লারের সামনে এলেই দেখা যাচ্ছে তরুণী থেকে শিশুরা পর্যন্ত আইসক্রিম নিতে গিয়ে নাচছে। দেখা গেল, একজন পর্দানশিন কিশোরীও নিজেকে সামলাতে না পেরে নাচতে শুরু করে দিল।

ব্যাপার কী? খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল, আইসক্রিম খেতে চাইলে নাকি নাচ করতে হয়। যার ফলে নাচটির নামই হয়ে গেছে আইসক্রিম ডান্স। বিষয়টি নিয়ে দুদিনব্যাপী ইউটিউব, বিভিন্ন ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট ঘেঁটে জানা গেল, এই নাচের আবিষ্কার হয়েছে তুরস্কে। বেশ কিছুদিন ধরেই এটা নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড। আইসক্রিম খেতে গিয়েই সবাই নাচছে। আর এর বাইরে বাংলাদেশিরাও পিছিয়ে নেই। ইউটিউব ও টিকটকে হাজার হাজার নিত্যনতুন ঢঙে আইসক্রিম ডান্সের ভিডিও।

আইসক্রিম ডান্স কেন? তুরস্কের একজন আইসক্রিম বিক্রেতা নিজের আইসক্রিম পার্লারে একটি গান বানিয়ে নিজের দোকানে চালাচ্ছিলেন। আর সেখান থেকেই এই ভাইরাল নাচের শুরু। এই আইসক্রিম বিক্রেতার নাম মেহমেত ডিঙ্ক। ১৯৮২ সালে তুরস্কের হাটেয় প্রদেশের আন্টাকিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন মেহমেত।

১৯৮২ সালে জন্ম নেওয়া শৈশব-কৈশোর বড়ই কষ্টে কেটেছে মেহমেত ডিঙ্কের। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে কর্মজীবন শুরু করেন। না, বড় কোনো কাজ শুরু করেননি। জীবিকা শুরু করেন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে। জীবনে কোথাও নাকি স্থির হতে পারছিলেন না তিনি। যা কাজ করেছিলেন, সে সঞ্চয়টুকু নিয়েই ফেরেন তুরস্কে।

তুরস্কের মোস্তফা কামাল বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস ইনফরমেটিকসে পড়াশোনা শুরু করেন। একই সঙ্গে শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রি। তুরস্কের আন্টাকিয়া শহর একটি পর্যটন শহর। ডিঙ্ক এই শহরের লারায় শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রির পেশা। সব সময় কাজে বৈচিত্র্য খুঁজতেন মেহমেত। করোনা মহামারি শুরুর আগে নেচে-গেয়ে আইসক্রিম বিক্রির ধারণাটি মাথায় আসে।

মেহমেত নিজের গাওয়া গান ‘কালবিমসিন’-এর সঙ্গে নেচে আইসক্রিম বিক্রি করতে শুরু করেন। এরপর ক্রেতাদের আহ্বান জানাতেন নিজের স্টাইলে নাচার জন্য। অনেকেই তার আহ্বানে সাড়া দিতে থাকেন। ক্রমেই ‘সিলগিন ডন্ডুরমাজে’- মানে তার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। এই গানটিও বলিউডের একটি গানের সুর থেকে অনুকরণ করে বানান বলে জানা যায়।