ক্যারিয়ারের প্রথম মাইলফলক স্পর্শ করলেন ইয়াসির

হ্যাগলি ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ৬ উইকেট হারিয়ে ৫২১ রানে ইনিংস ঘোষণা করে কিউইরা। বোলিংয়ে নেমে কিউইরা চেপে ধরেছে বাংলাদেশকে। ১১ রান তুলতেই বাংলাদেশের হারিয়েছে ৪ উইকেট। এরপর চা পানের বিরতিটা যেন হিতে বিপরীত হলো বাংলাদেশ দলের জন্য। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার যে আভাস দেখা গিয়েছিল লিটন দাস ও ইয়াসির আলি, তার সলীম সমাধি ঘটলো চা পানের বিরতির ঠিক পরের ওভারেই।

মাত্র ৬.১ ওভারে প্রথম চার ব্যাটারের উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় সেশনের বাকি ৪.৫ ওভারে ১৬ রান যোগ করেছিলেন লিটন ও ইয়াসির। কিন্তু শেষ সেশনে খেলতে নেমে ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই কট বিহাইন্ড হয়েছেন লিটন। আউট হওয়ার আগে ১৮ বল থেকে ৮ রান করতে পেরেছেন লিটন। মাত্র ২৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে অকূল পাথারে বাংলাদেশ দল।

এরপর ৪১ ফিরে যান সোহান। ইয়াসিরকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন মিরাজ। কিন্তু বোল্টের বলে বোল্ড হয়ে ৫ রানে ফিরে যান তিনি। তবে এই চাপের মধ্যে ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক হাঁকালেন ইয়াসির আলী। ৮৫ বলে ৭ চালে ৫০ রান পুরন করেন তিনি। এরপর ২ রান করে ফিরে যান তাসকিন। শেষ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান করেছে বাংলাদেশ। অপরাজিত আছেন ইয়াসির ৫৫ ও নতুন ব্যাটার শরিফুল ২।

নিউজিল্যান্ডের ৫২১ রানের জবাবে ইনিংসের প্রথম বলে দুই রান নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন সাদমান ইসলাম। টিম সাউদির করা সেই ওভারেই তুলে নিয়েছিলেন সাত রান। কিন্তু পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেই টম লাথামের হাতে ক্যাচ বানিয়ে তাকে সাজঘরের টিকিট ধরিয়ে দেন ট্রেন্ট বোল্ট। পরের ওভারে অভিষিক্ত নাইম শেখকে সরাসরি বোল্ড করে দেন সাউদি। পাঁচ বল খেলেও কোনো রান করতে পারেননি এ বাঁহাতি ওপেনার।

সাইফ হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়ের পর অভিষেকে শূন্য রানে আউট হওয়া বাংলাদেশের তৃতীয় ওপেনার হলেন তিনি। সাদমান আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ওভারের শেষ চার বল থেকে দুইটি ডাবলস নিয়েছিলেন নাজমুল শান্ত। সেখানেই শেষ। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে সাদমানের মতো শান্তকেও স্লিপে দাঁড়ানো লাথামের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন বোল্ট। শান্ত করতে পারেন মাত্র ৪ রান।

বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়ে পরের ওভারের প্রথম বলেই সাউদির ফুল লেন্থের ডেলিভারিতে মুমিনুল বোল্ড হয়ে গেলে। আগের ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা অধিনায়ক মুমিনুল এই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে রানের খাতা খুলতে পারেননি। মাত্র ১১ রানে চার উইকেট হারিয়ে অবধারিতভাবেই ফলো-অনের শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ।

তবু সাহস নিয়ে পাল্টা আক্রমণের আভাস দেন লিটন-ইয়াসির। বিশেষ করে ইয়াসিরের একটি অফ ড্রাইভ ও লিটনের পুল শটে চারের মার আশার সঞ্চার করে বাংলাদেশ শিবিরে। আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪ উইকেটে ২৭ রান নিয়ে চা পানের বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে এসে দ্বিতীয় বলেই ইনসাইড এজ হয়ে উইকেটরক্ষক টম ব্লান্ডেলের হাতে ধরা পড়ে যান লিটন।

ফলে এখন নিজেদের দলীয় সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা টিম টাইগার্স। এর আগে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে অধিনায়ক টম লাথামের ডাবল সেঞ্চুরি ও ডেভন কনওয়ের সেঞ্চুরিতে রানপাহাড়ে চড়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। লাথামের ২৫২ রানের পাশাপাশি ডেভন কনওয়ে ১০৯ এবং টম ব্লান্ডেল অপরাজিত ফিফটির সুবাদে ৬ উইকেট হারিয়ে ৫২১ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছে কিউইরা।

আগেরদিন মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৩৪৯ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। আজ ৫ উইকেট হারালেও, স্কোরবোর্ডে যোগ করে আরও ১৭২ রান। তাও কি না মাত্র ৩৮.৫ ওভারেই। বাংলাদেশের পক্ষে এবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।