করোনাকালে শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ দ্বিগুণ হয়েছে

করোনাভাইরাস মহামারিকালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর সম্পদ আরও বেড়েছে। এর বিপরীতে দারিদ্র্য ও অসমতা বেড়েছে। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম।প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মহামারি শুরুর পর ২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ ১০ জন ধনীর সম্মিলিত সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে নিম্নআয়ের ২১ হাজার মানুষ।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের নিয়ে ছোট আকারের একটি সম্মেলন শুরু হচ্ছে। এই সম্মেলন শুরুর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে অক্সফাম।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের বরাতে অক্সফামের প্রতিবেদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী হিসেবে- ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, বেরনাহ আরনোহ ও পরিবার, বিল গেটস, ল্যারি এলিসন, ল্যারি পেইজ, সের্গেই ব্রেইন, মার্ক জাকারবার্গ, স্টিভ বলমার ও ওয়ারেন বাফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।অক্সফামের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই ধনীদের ৭০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ বেড়ে দেড় ট্রিলিয়ন হয়েছে। প্রতিদিন তাদের সম্পদ বেড়েছে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এই মহামারিকালে যে পরিমাণ সম্পদ ধনীদের বেড়েছে, গত ১৪ বছরে সেই পরিমাণ সম্পদ বাড়েনি। কিন্তু এমন সময়ে সম্পদ বাড়ছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি সংকটের মুখে রয়েছে।

এই অর্থনৈতিক অসমতার কারণে বিভিন্ন ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এর কারণে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না দারিদ্ররা। ক্ষুধা, লিঙ্গবৈষম্যগত সহিংসতা বেড়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে করা অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগের অভাব, ক্ষুধা, জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতি চার সেকেন্ডে একজনের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে।

অক্সফাম বলছে, আর্থিক অসমতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা সংকট, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব পড়ছে। এতে প্রতিদিন ২১ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। মহামারির কারণে ১৬ কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। অসমতা বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভুগছে অশ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু জাতিসত্তার মানুষ ও নারীরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমাতে বাধ্য হয়েছে কারণ জাতীয় ঋণ বাড়ছে। লিঙ্গভিত্তক সমতা অর্জন পিছিয়ে পড়েছে, কারণ ২০১৯ এর তুলনায় বর্তমানে এক কোটি ৩০ লাখ কম নারী কর্মক্ষেত্রে কাজ করছে এবং দুই কোটির বেশি মেয়ে আর কখনও বিদ্যালয়ে ফিরতে না পারার ঝুঁকির মুখে।

যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি ও যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকানসহ জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী কোভিডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর পদ্ধতি সংস্কারের কথা বলেছে অক্সফাম। আরও বিস্তৃত উৎপাদন ও দ্রুততর সরবরাহ নিশ্চিতে কোভিড-১৯ টিকার মেধাস্বত্ত্ব তুলে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

Back to top button