পদ্মা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায় করবে কোরিয়ান কোম্পানি

পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে এককভাবে একটি কোরিয়ান কোস্পানিকে। সেতু চালু হওয়ার পর ৫ বছরের জন্য পদ্মা সেতুর টোল আদায় করবে কোরিয়াভিত্তিক কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন (কেইসি)। ৫ বছরেরর জন্য এই কোম্পানিকে সর্বমোট দেয়া হবে ৬৯৩ কোটি টাকা। এই হিসেবে প্রতিবছর কোম্পানিটির পেছনে পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের জন্য ব্যয় করতে হবে ১৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। জি-টু-জি এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (টেন্ডার ছাড়া) কোম্পানিটিকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে এই ক্রয় প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে বৈঠকটি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সড়ক অবকাঠামো। এখন পর্যন্ত সেতুটির ৯৬.৫০ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পাদিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে সেতুর পরিচালনা, রক্ষাণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের জন্য সার্ভিস প্রোভাইডার প্রয়োজন হবে।

সূত্র জানায়, পদ্মা বহুমুখী সেতুর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের জন্য সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশনকে (কেইসি) দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার মিনিস্ট্রি অব ল্যান্ড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ঢাকাস্থ কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠি অনুযায়ী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সেতু বিভাগ কর্তৃক কেইসির সেতু রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার তথ্যাদি যাচাই করা হয়। এরপর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে জি-টু-জি ভিত্তিতে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২০ সালের ১২ আগস্ট তারিখের সভায় পদ্মা বহুমুখী সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে জি-টু-জি ভিত্তিতে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগ সংক্রান্ত সেতু বিভাগের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।

সূত্র জানায়, কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন কর্তৃক দাখিল করা কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য সেতু বিভাগের ‘জি-টু-জি পদ্ধতিতে মূল্য নিরুপনের জন্য সরাসরি প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ক্রয়তব্যপণ্য/সেবার দাম নিরুপণ সংক্রান্ত কমিটি’ কর্তৃক এ সংক্রান্ত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কারিগরি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কারিগরি কমিটি কর্তৃক যাচাই চলাকালে পদ্মা বহুমুখী সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে কেইসি কর্তৃক পদ্মা সেতুর নির্মাণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি)’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বা জয়েন ভেঞ্চার অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে এবং সর্বশেষ ২০২১ সালের ২১ মে তারিখে যৌথ কারিগরি প্রস্তাব দাখিল করে।

সূত্র জানায়, কারিগরি কমিটি কেইসি-এমবিইসি জেভি এর যৌথ কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়ন করে ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করে। ‘জি-টু-জি পদ্ধতিতে দাম নিরুপনের জন্য সরাসরি প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ক্রয়তব্য পণ্য/সেবার মূল্য নিরুপণ সংক্রান্ত কমিটি’ কারিগরি কমিটির উক্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কিছু সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠান কেইসি ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর সংশোধিত কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করলে উক্ত প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য আবার কারিগরি কমিটির কাছে পাঠানো হয়। কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জি-টু-জি কমিটি প্রস্তাবকারী কেইসি’র সঙ্গে ২০২২ সালের ১৫ মার্চ নেগোশিয়েশন শেষ করার পর প্রতিবেদন দাখিল করে।

জানা গেছে, পদ্মা বহুমুখী সেতু পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায় কার্যক্রম পাঁচ বছর মেয়াদে পরিচালনার জন্য আইটি ও ভ্যাটসহ মোট ৬৯২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

Back to top button