যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

নোয়াখালী সদরের দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে বাবার বাড়িতে সিএনজিযোগে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি টের পেয়ে গৃহবধূর স্বজনরা সিএনজিসহ স্বামী আলমগীর ও তার সহযোগীদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে সুধারাম থানার পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। আহত গৃহবধূ বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গৃহবধূ ও তার স্বজনরা বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগ করে বলেন, একই উপজেলার চর উরিয়া গ্রামের ডাক্তার বাজারের সংলগ্ন আলমগীরের সাথে গত দুই মাস আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে গৃহবধূকে স্বামী আলমগীর গাজীপুর চৌরাস্তায় একটি বাসায় নিয়ে রাখে এবং যৌতুক হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে।

পরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাতাকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীর ওপর চলে দফায় দফায় নির্যাতন। তার দুই মাসের নবাগত বাচ্চাটিকেও নষ্ট করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে নির্যাতনের পর ঢাকার গাজীপুর থেকে নোয়াখালী সদরে মেয়ের বাবার বাড়িতে অজ্ঞান অবস্থায় স্ত্রীকে ফেলে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গৃহবধূর পরিবার ও স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক তাদের সিএনজিটি আটক করে থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিচারের আশ্বাস দিয়ে সিএনজিসহ স্বামী আলমগীরকে নিয়ে যায়।
তবে গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে যাওয়া তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোতাহের হোসেন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্বামী আলমগীরের সাথে মীমাংসা করার পরামর্শ দেন। না হলে উল্টো মামলায় ফাঁসবে বলে হুঁশিয়ারি করেন। খুব দ্রুত মামলা করবেন বলে জানান তার পরিবার।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুধারাম থানার এসআই মোতাহের হোসেন বলেন, আমি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি, তারা দেয়নি। আমি ওই সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সিএনজিসহ আলমগীরকে থানায় নিয়ে এসেছি।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আলমগীরের এটা দ্বিতীয় স্ত্রী। তার প্রথম সংসারে তিনটি ছেলেমেয়ে রয়েছে।

Back to top button