দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন করতে চিঠি

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দ্রুততম সময়ে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে বলল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কেননা, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় স্থানীয় এ সরকারে প্রশাসক বসানোর প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে সরকার। ইসি সচিবকে পাঠানো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তানভীর আজম ছিদ্দিকীর ১৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে- জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ এর ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী [ জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সংশোধিত জেলা পরিষদসমূহের সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য সংখ্যা এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সংখ্যা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে (কপি সংযুক্ত)। সে প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদসমূহের সকল ওয়ার্ডের সীমা পুনঃনির্ধারণপূর্বক চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ এর ধারা ১৯ (খ) অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, জেলা পরিষদ আইন (সংশোধন-২০২২) অনুসরণে জেলা পরিষদের পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এদিকে জেলা প্রশাসকদের পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে- জেলা পরিষদগুলোর সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য সংখ্যা এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সংখ্যা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের সকল ওয়ার্ডের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা প্রয়োজন।

জেলা পরিষদ (ওয়ার্ডের সীমা নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৬ অনুযায়ী জেলা ডেপুটি কমিশনার সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের ‘সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা’ এবং তার মনোনীত উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার অথবা এডিশনাল ডেপুটি কমিশনার সহকারী সীমা নির্ধারণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালন করে থাকেন।

এমতাবস্থায়, জেলা পরিষদ (ওয়ার্ডের সীমা নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ৪, ৫ ও ৬ অনুসরণে যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের ওয়ার্ডের সীমা পুনঃনির্ধারণ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে এ বিভাগকে অবহিত করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, আমরা এখনো কোনো চিঠি পায়নি। চিঠি পেলেই নির্বাচনের প্রক্রিয়া হাতে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নতুন করে জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করে। এরপর জোট সরকারের আমলে এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জেলা পরিষদ পরিচালনা করে। এরপর প্রথমবারের মতো স্থানীয় এই সরকারে নির্বাচন হয় ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর। সে সময় ৬১টি জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) নির্বাচন হয়েছিল। ১৯টি জেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলার অধীনে যতগুলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর সদস্যরাই জেলা পরিষদ সদস্যদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। অর্থাৎ সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়র এবং কাউন্সিলররা বা সদস্যরা ভোট দিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত করতেন। কিন্তু সংশোধীত আইনে জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলার সংখ্যার সমান। আর নারী সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলা চেয়ারম্যানদের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ একেক জেলা পরিষদের সদস্যের সংখ্যা হবে একেক রকম, সংশোধনের আগে যেটা ২১ জন নিদির্ষ্ট করে দেওয়া ছিল।

আগে জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচন না হওয়ার পর্যন্ত পূর্বের পরিষদকেই দায়িত্ব পালন করার কথা বলাছিল আইনে। কিন্তু সংশোধনীতে সেটির পরিবর্তে প্রশাসক বসানোর বিধান আনা হয়েছে। সেই ক্ষমতা বলেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রশাসক বসানোর আদেশ জারি করেছে।

স্থানীয় এই সরকারের আইনটি সংশোধনের পর ১৭ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম ছিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রশাসক বসানো কথা বলা হয়। এতে বলা হয়- দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ায় নির্বাচিত পরিষদগুলো বিলুপ্ত করা হলো।

এ অবস্থায় জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের আগে প্রত্যেক জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি যোগ করে জেলা পরিষদ আইনের সংশোধনী ৬ এপ্রিল সংসদে পাস হয়। এরপর সংশোধনীর গেজেট প্রকাশ হয় ১৩ এপ্রিল।

Back to top button