নিউমার্কেটের অরাজকতার নেপথ্যে যারা, জানালেন গোলাম রব্বানী

নিউমার্কেট সংঘর্ষ নিয়ে উত্তাল রাজধানী। গত সোমবার রাত থেকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটসহ আশপাশের ব্যবসায়ীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। ঘটনায় মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৬০ জন আহত এবং নাহিদ নামের একজন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে সম্প্রতি রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় এই সংঘর্ষ ও অরাজকতার নেপথ্যে নিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী।

মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১০ টা ৩৫ মিনিটে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে তিনি লিখেছেন, যে খাবারের দোকানে বাকবিতণ্ডা নিয়ে ঢাকা কলেজের দুজন শিক্ষার্থীকে মারধোর ও ছুরিকাঘাত করা হয়, সেই দোকানের মালিক এডভোকেট মকবুল (নিউমার্কেট থানা বিএনপির সভাপতি)ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার মূল কুশীলব ও উষ্কানিদাতা আমির হোসেন। (নিউমার্কেট থানা যুবদলের আহবায়ক) মার্কেটে ৫ টা দোকানের মালিক, এক সময় বিএনপি’র নাসিরুদ্দিন পিন্টুর ডানহাত ছিলো।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে মিজান (নিউমার্কেট থানা, ১৮ নং ওয়ার্ড যুবদলের সেক্রেটারি, সব ডিল করে মিজানের স্ত্রী ময়না) টিপু- লক্ষ্মীপুর জেলার একটা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি, নিউমার্কেটে ৯ টা দোকানের মালিক। আরও তথ্য আসছে, শীঘ্রই সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে রাজধানীর নিউমার্কেটের একটি খাবারের দোকানের কর্মীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে গভীর রাতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকানকর্মীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও রবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষ রাত আড়াইটা পর্যন্ত গড়ায়।

এ ঘটনার জেরে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিকালে পুলিশ এসে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে দুই পক্ষকে সরালেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ঢাকা কলেজের ছাত্রদের বিকেলের মধ্যে ছাত্রাবাস ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তারা তা করেননি। রাত পৌনে নয়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে আছেন। অন্যদিকে নিউমার্কেটের কাছে ব্যবসায়ীরাও অবস্থান নিয়ে আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে নাহিদ (১৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

Back to top button