নিরক্ষর নারীদের বিদেশে পাঠানো বন্ধ হওয়া উচিত

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, আমরা গৃহকর্মী হিসেবে যাদের বিদেশে পাঠাই, তাদের বেশিরভাগই নিরক্ষর। বিদেশে নিরক্ষর নারীদের চেয়ে অসহায় আর কেউ হতে পারে না।

তিনি বলেন, নিরক্ষর নারীদের বিদেশে পাঠানো বন্ধ হওয়া উচিত। আমি মনে করি, অন্তত অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পাস করা নারীদের গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো উচিত।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে নারী অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা ২২টি সংগঠনের জোট ‘নারী অভিবাসীদের সম্মিলিত কণ্ঠ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যাদের শিক্ষা নেই, তাদের বোঝার ক্ষমতা কম থাকে। বিদেশে তখন তাদের সঙ্গে অন্যায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু শিক্ষিত নারী কর্মী পাঠানো গেলে তাদের সচেতনতা বেশি থাকবে। এতে করে তাদের সঙ্গে অন্যায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। যত দ্রুত আমরা ভূমিকা রাখতে পারব, তত তাড়াতাড়ি নারী কর্মীদের নির্যাতনের খবর কমে আসবে। সচেতনতার জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। কিন্তু সম্পূর্ণ নিরক্ষর মানুষকে সচেতন করা সম্ভব না। বিদেশগামী নারী কর্মীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, যে নারীরা কর্মী হয়ে বিদেশ যেতে চান, তাদের আগে জানতে হবে কোথায় গেলে সুবিধা হবে। তাদের সহযোগিতা করার জন্য আমাদের জেলা জনশক্তি অফিস, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রায় সব জেলায় আছে। সেখানে আমরা পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করার চেষ্টা করি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কানাডার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের অর্থায়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ জোটের সেক্রেটারিয়েট হিসেবে কাজ করবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ইমরান জানান, বিদেশে নারী কর্মীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কেয়ার গিভার ও নার্সিং অনেক বড় খাত। এ খাতে বাংলাদেশের ভালো করার জন্য আলাদা টিটিসি এবং নারীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি।

অভিবাসী হিসেবে নারীদের কর্মসংস্থানের থেকেও দেশের গার্মেন্টস খাত কাজের জন্য বড় সুযোগ। এ খাতের সম্ভাবনাকে বাদ দিয়ে নারীদের বিদেশে যাওয়ার আগে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন ইমরান আহমদ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন উপস্থিত ছিলেন।

Back to top button