লালপুরে ফসলি জমিতে পুকুর কেটে মাটি নিচ্ছে রিজভী কনস্ট্রাকশন

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে নাটোরের লালপুরে রাতের অন্ধকারে রিজভী কনস্ট্রাকশন নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফসলি জমি থেকে পুকুর খননের মাধ্যমে মাটি হরিলুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আর এসব মাটি লালপুর-ঈশরদী সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যবহার করছে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। দিনের পর দিন সকলের চোখের সামনে এসব কর্ম কান্ড চললেও এ ব্যাপারে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা দেখা গেছে।

ফসলি জমিতে পুকুর খননের ফলে কমে যাচ্ছে আবাদি জমি। আর এসব পুকুরের মাটি পরিবহনের ফলে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এস্কেবেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে তিন-চার ফসলি জমিতে পুকুর কেটে মাটি নিচ্ছে ঠিকাদারি ওই প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে উপজেলার লালপুর সদর, ঈশ্বরদী,বিলমাড়ীয়া,দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় তিন-চার ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব শুরু করেছে তারা। উল্লেখ্য লালপুর-ঈশ্বরদী সড়কের লালপুর অংশের নির্মান কাজ পায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আর এ সড়ক নির্মানে প্রয়োজন লক্ষ লক্ষ ঘনফুট মাটি, বালু ও ভরাট। আর এসব মাটির যোগান দিতে মরিয়া ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

তারা এর আগে লালপুর পদ্মা নদী থেকে অবৈধ্যভাবে বালু ভরাট উত্তলোন করলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রচারিত হলে আদালত তা বন্ধ করে তদন্তের নির্দেশ দেয় পিবিআইকে। এর পর থেকেই ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নজর পড়ে ফসলি জমির দিকে। কৃষকদের অর্থের লোভ দেখিয়ে তারা ফসলি জমিতে পুকুর খননের মাধ্যমে তারা মাটি নিয়ে যাচ্ছে।

ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক স্থানে রাতভর চলে ফসলি জমিতে পুকুর কাটার মহাউৎসব। আর এ সব পুকুরের মাটি ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এমনকি ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ও ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধের জন্য পুলিশ সহ উপজেলা প্রশাসনের বরাবর আবেদন করেও কোন সাড়া পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সরজমিনে চামটিয়া (জয়ন্তিপুর)গিয়ে দেখা গেছে,মাটি কাটার তদারককারী এক ব্যক্তি বলেন,অনুমতি আছে কিনা আমার জানা নেই,আপনার রিজভী কনকস্টাকসন এর ইঞ্জিনিয়ার রুবেল স্যারের সাথে কথা বলুন। এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন,পত্রিকায় লেখা লেখি করে কোন প্রতিকার হয়না ভাই। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব পুকুর খনন করছে তারা। এবিষয়ে রিজভী কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী রুবেলর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে উপজেলার বিশম্বপুর গ্রামের কৃষক সোলেইমান হোসেন বলেন,ফসলি জমিতে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের বরাবর আবেদন করে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন,ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা নিষিদ্ধ। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা সুলতানা বলেন,ঘটনা স্থলে গিয়ে ভেকুর ব্যাটারি খুলে নেওয়া হয়েছে এবং পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত রয়েছে ।

Back to top button