আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ আহত-১৫

মোঃমনির মন্ডল, সাভার প্রতিনিধিঃ আশুলিয়ায় উৎসব বোনাস ও ঈদের ছুটির দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পলাশবাড়ী এলাকায় স্কাইলাইন গ্রুপ গার্মেন্টস শ্রমিকরা রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই বিক্ষোভ করেন। তারা প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। দুপুর দেড়টার দিকে যানচলাচল স্বাভাবিক হলেও কারখানাটির সামনে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে দেখা গেছে।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ, ইটপাটকেল ও টিয়ারশেল ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শ্রমিকরা বলছেন, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে অন্তত ১০ সহকর্মী আহত হয়েছেন।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ৮/১০টি পরিবহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। তাদের হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

বিক্ষোভের কারণ জানতে একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সবাই ছুটি ও বোনাস কম দেয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন। তবে কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি।

এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘ঈদের ছুটি ছয়দিন দেয়া হয়েছে। রমজান মাসে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে। এর আগে আমাদের বেসিক বেতনের অর্ধেক বোনাস দিয়েছিল। যেটা কোনো ফ্যাক্টরিতে করে না। আমাদের ১০ দিন ছুটি ও ফুল বেসিক অনুযায়ী বোনাস দিতে হবে।

এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘ঈদের ছুটি ছয়দিন দেয়া হয়েছে। রমজান মাসে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে। এর আগে আমাদের বেসিক বেতনের অর্ধেক বোনাস দিয়েছিল। যেটা কোনো ফ্যাক্টরিতে করে না। আমাদের ১০ দিন ছুটি ও ফুল বেসিক অনুযায়ী বোনাস দিতে হবে।’

আমরা ন্যায্য বোনাস ও ছুটির দাবিতে রোববার আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশল নিক্ষেপ করে অন্তত ১০ শ্রমিক আহত করেছে।’

তবে শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারখানার ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিউজবাংলার প্রতিবেদককে বাধা দেয়া হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটি ও বোনাসের দাবিতে রোববার স্কাইলাইন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা সড়ক অবরোধ করে বেশ কিছু পরিবহনে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় তাদের ছোড়া ইটপাটকেলে আমাদের ৪/৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমরা শ্রমিকদের পরে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন আছে

Back to top button