জানতাম প্রধানমন্ত্রী এই মাঠে থানা ভবন করতে দেবেন না

রাজধানীর কলাবাগানে তেঁতুলতলা মাঠটিতে খেলাধুলা, জানাজা, ঈদ জামাত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে আসলেও গত ৩১ জানুয়ারি থেকে তা বন্ধ। মাঠের জায়গায় কলাবাগান থানার স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য রোববার থেকে মাঠের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

এরপর এলাকাবাসী মাঠ রক্ষায় আন্দোলনে নামে। মাঠে থানা নির্মাণের প্রতিবাদ করায় গত রোববার সৈয়দা রত্না ও তার ছেলে ঈসা আব্দুল্লাহকে আটক করে পুলিশ। ওই মাঠ থেকে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় তাদের দুজনকে আটকের প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

এরপর ধীরে ধীরে আন্দোলন বড় হতে থাকে। ঢাকা মহানগর পুলিশ পরে জানায়, জায়গাটি তারা সরকারের কাছ থেকে কিনে নিয়েছে। সেখানে থাকা করার পর একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন সেখানকার তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। পুলিশ জানায়, তারা সব আইন মেনেই সেখানে থানা নির্মাণের কাজ শুরু করে।

মাঠ রক্ষার আন্দোলন জোরালো হলে বিষয়টি নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে জানানো হয়, মাঠে থানা হবে কি না তার সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত এই মাঠে থানা ভবন হচ্ছে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মাঠ রক্ষার আন্দোলনে নেমে ছেলেসহ থানায় আটকে থাকা সৈয়দা রত্না। তিনি বলেন, আমি জানতাম প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছালে মাঠটিতে থানা হতে দেবেন না তিনি। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সৈয়দা রত্না।

তিনি বলেন, মাঠটি ছিল এলাকাবাসীর নিশ্বাস। এ মাঠটি রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে যাচ্ছিলাম। মাঠ রক্ষার জন্য আমিসহ আমার শিশু সন্তানকে থানায় ১২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তবে আশার কথা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, এই মাঠে থানা ভবন নির্মাণ হবে না। আমি জানতাম তার (প্রধানমন্ত্রী) কানে বিষয়টি পৌঁছালে তিনি এই মাঠে ভবন করতে দেবেন না।

এর আগে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৭ সালে আমরা ওই জায়গাটির জন্য এপ্লাই (আবেদন) করেছিলাম। তবে খোঁজ নিয়ে দেখলাম ওই এলাকায় খেলার জায়গা নেই। প্রধানমন্ত্রীও পরামর্শ দিয়েছেন, যেহেতু খালি জায়গা নেই, বিনোদনের কিছু নেই সেজন্য তিনি বলেছেন পুলিশের জমি সেভাবে থাকুক। কোনো কনস্ট্রাকশন যেন না হয়। যেভাবে চলছে চলতে থাকুক। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।

Back to top button