১০০ আসনে ইভিএমে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা ইসির

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ করার লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১০০ আসনে ইভিএমে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এরই অংশ হিসেবে আসন্ন ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে পুরো ভোটগ্রহণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হবে। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে জোর আপত্তি তুলেছিলেন। লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ যন্ত্রে যে ম্যানুপুলেট করা যায় না-তা নিশ্চিত না করে ব্যবহার করা যাবে না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন, বিনা টেন্ডারে কীভাবে ইভিএম এলো। ইভিএম নিয়ে একজনের এত উৎসাহ কেন, তা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। কোনোভাবে বড় পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। চাইলে ৫ থেকে ১০ কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করতে পারে। তবে এটা না হওয়াই ভালো।

সবার মতামত নিয়ে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছিলেন, আমাদের হারানোর কিছু নেই। যে বয়স হয়ে গেছে তাতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। কাজেই আমাদের আসলে পাওয়ার কিছু নেই। এখান থেকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমরা যদি ইতিবাচক কিছু করতে পারি, আপানারা যে সাজেশনগুলো দিয়েছেন, ওগুলো বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনকে যদি অবাধ ও সুষ্ঠ করা যায়, তাহলে সেটা আমাদের সবার অংশগ্রহণে একটা সফলতা হতে পারে।

সিইসি বলেছিলেন, ১০০ শতাংশ সফলতা হয়তো হবে না, হয়ও না কখনো। কিন্তু কেউ বলেছেন সেটা যদি ৫০ শতাংশ ৬০ শতাংশও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটাও বড় সফলতা। তিনি আরও বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জের ইলেকশন খুব সুন্দর হয়েছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমের এটা একটা বড়দিক। তিনি বলেছিলেন, ইভিএম ব্যবহারে অনেকেই অভ্যস্ত নয়। মেশিনের মাধ্যমে কোনো ডিজিটাল কারচুপি হয় কি না, পৃথিবীর অনেক দেশ ইভিএম বাতিল করে দিয়েছে, কেন করলো সেটা গবেষণা করা উচিত বলেও অনেকে মতামত দিয়েছেন।

এছাড়া যদি কোনরকম কারচুপি হয়ে থাকে তাহলে রিকাউন্টিং করা যাবে কি-না, এটার কোনো ব্যবস্থা আছে কি-না, তা আমাদেরও বুঝতে হবে। আমাদের টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং করে একটা ধারণা নিতে হবে। জানা যায়, মাত্র দুই বোতাম চেপেই ইভিএম-এ ভোট দেয়া যায়। ইভিএম-এ জাল ভোট দেয়া, কেন্দ্র দখল করে ভোট প্রদান, একজনের ভোট অন্যের পক্ষে প্রদান, একবার ভোট দিয়ে থাকলে দ্বিতীয়বার ভোট দেয়া যায় না। কোন কারণে ভোটার কেন্দ্রে না গেলে বা মৃত ভোটারের ভোট অন্য কারো পক্ষে প্রদান করা সম্ভব হবে না। কোন অবস্থাতেই অবৈধ ভোট দেয়ার সুযোগ নেই, এমনকি ইভিএম ছিনতাই করে নিলেও তার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের আগে মেশিন চালু হওয়ার সুযোগ নেই বিধায় ভোট গ্রহণ শুরুর পূর্বে অবৈধ ভাবে ভোট গ্রহণ বা প্রদানেরও সুযোগ নেই।

২৫ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে (কুসিক) আগামী ১৫ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ঘোষণা করেন। একই তফসিলে ছয়টি পৌরসভা ও ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে। স্থানীয় সরকার এসব নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ মে, বাছাই ১৯ মে,রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ২০-২২ মে পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৩-২৫ মেমনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ২৬ মে, প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ জুন।

Back to top button