সৈয়দপুরে অটোরিকশা চালককে গলা কেটে হত্যা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে আলমগীর হোসেন (৩২) নামের এক অটোরিকশা চালকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে।

বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শহরের উপকন্ঠ ঢেলাপীরস্থ উত্তরা আবাসনের বাঙ্গালীপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাশুড়ী আবেদা খাতুন ওরফে হাইজানীসহ চার জনকে আটক করেছে। এ রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশের সুত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া (সর্দারপাড়া) এলাকার তছলিম উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে প্রায় ৮ বছর আগে ঢেলাপীর উত্তরা আবাসনের বাসিন্দা নজরুল ইসলামের মেয়ে মোছা. আতিকা বেগমকে ভালবেসে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই সে (আলমগীর) উত্তরা আবাসনের বাঙ্গালীপট্টির ২৪/৭ নম্বর কোয়ার্টারে স্ত্রী সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। আলমগীর ও আতিকা দম্পতির ৬ বছর ও ৪ বছর বয়সী দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আলমগীর পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। তাঁর স্ত্রী আতিকা বেগম নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডের একটি কোম্পানীতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ঘটনার দিন গতকাল বুধবার সকালে আলমগীরের স্ত্রী আতিকা বেগম তরনী নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কাজে চলে যান। ওই দিন বিকেল পাঁচটার দিকে নিহত আলমগীরের বড় ভাই আতিকুল ঢেলাপীর অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চেইন মাস্টারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় জনৈক এক নারী এসে আতিকুলকে জানায়, তাঁর ছোট ভাই আলমগীরকে কে বা কারা গলা কেটে পালিয়ে গেছে। এ সংবাদে ভাই আতিকুর সঙ্গে সঙ্গে আলমগীরের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে তার গলা কাটা ও রক্তাক্ত লাশ বিছানার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে আতিকুল ইসলাম তাঁর সঙ্গী ফরমানের সহযোগিতায় ছোট ভাই আলমগীরকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে রাতে মৃত আলমগীরের লাশ থানায় নিয়ে আসেন। আজ বৃহস্পতিবার লাশের ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে কারা অটোরিকশা চালক আলমগীরকে গলা কেটে হত্যা করেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় শ্বাশুড়ী আতিকা বেগমসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা নেওয়া হয়েছে।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসানাত খান জানান, এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শ্বাশুড়ীসহ চারজনকে থানায় এনে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

যাযাদি / এম

Back to top button