থমথমে ঢাবি

ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে যেকোনো মূল্যে ছাত্রদল ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল দিনভর বিভিন্ন পয়েন্টে তারা অবস্থান নিয়েছিল এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করে। যদিও গতকাল কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে হামলা চালায় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এতে ছাত্রদলের প্রায় চল্লিশ জন নেতাকর্মী আহত হন। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীও আহত হয়েছিলেন।
গতকাল ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে অবস্থিত জাতীয় কবির সমাধি সৌধে ফুল দিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। এদিন কবির মাজারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন

ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসতে পারে- এমন খবরে সতর্ক অবস্থানে ছিল ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তাদের অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। হল ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল শোডাউন দিতেও দেখা যায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের। তবে বেলা গড়িয়ে গেলেও কবির মাজারে দেখা যায়নি ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকে। এদিকে হামলার প্রতিবাদে আজ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে ছাত্রদল। তবে ক্যাম্পাসে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

ওদিকে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাত ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, অজ্ঞাত ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস থেকে গতকাল মামলা করা হয়েছে। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহ মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০শে জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন হচ্ছিল। এ সময় একদল দুষ্কৃতকারী লাঠি, রড ও নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগের সামনে এক জোট হয়ে নির্বাচন বানচাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করতে অপতৎপরতা শুরু করে। বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানালে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখান থেকে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

Back to top button