ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রশিবিরের নিন্দা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক ছাত্রদলের ওপর সংঘটিত নৃশংস ও বর্বরোচিত ধারাবাহিক হামলা এবং পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল রাজিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি শিবলি ওমর ও সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ তাসনিম বলেন, অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ছাত্রলীগের এমন সশস্ত্র হামলা শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করারই নামান্তর। উল্লেখ্য, আজসহ বিগত দুই দিনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় হাইকোর্ট চত্ত্বর ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগের অন্তত ৫০০ সশস্ত্র নেতা-কর্মী।

বিবৃতি আরো বলা হয়, এ সময় হামলাকারীরা লাঠি, রড, হকিস্টিক ও চাপাতির মত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে আসা ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুই নেতা-কর্মীকে হলের পেছনে ড্রেনে ফেলে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। আজকের আক্রমণে হামলাকারী একজন কর্মীকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি করার দৃশ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এমনকি ছাত্রলীগের হামলায় পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত সাংবাদিকও রেহাই পায়নি আজ। রেহাই পায়নি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গনও। সুপ্রিম কোর্টে ঢুকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের আরেক দফা নির্মম নির্যাতন করে ছাত্রলীগ তাদের বিকৃত রূপটি জাতির সামনে প্রকাশ করেছে।

তারা বলেন, সশস্ত্র এ হামলায় এর আগে ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোঃ ইয়াহইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকতার হোসেন, সদস্য মানসুরা আলমসহ আরো অনেকে আহত হন। দফায় দফায় চলমান হামলায় সবমিলিয়ে শতাধিক ছাত্রদল নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনের সকল গুণ ছাত্রলীগ ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে। সুতরাং সময় এসেছে ছাত্রলীগকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার। এ লক্ষ্যে সমমনা ছাত্রসংগঠনগুলোর বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাই আমরা।

বিবৃতি তারা বলেন, অবিলম্বে ছাত্রলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি ক্যাম্পাসে সকল ছাত্রসংগঠনের সহবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রসমাজ দূর্বল নয়। ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ কঠোর প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলতে বাধ্য হবে। আর তখন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হলে তার দায় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।

Back to top button