উল্টো ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ঠেকাতে গতকালও সতর্ক অবস্থানে ছিল ছাত্রলীগ। টিএসসি থেকে পলাশী-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি পয়েন্টেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। দুপুর পর্যন্ত তারা অবস্থান নিয়ে ছাত্রদল বিরোধী নানা স্লোগান দেন। গত সপ্তাহে ছাত্রদল মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের দু’দফা চেষ্টায় ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়ে। ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় সংগঠনের অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এলাকায় ছাত্রদলের মিছিলে লাঠিসোঁটা, রড, চাপাতি হাতে হামলা করে। এতে ছাত্রদলের সাতজন গুরুতর আহতসহ প্রায় চল্লিশ জন নেতাকর্মী আহত হয়। সংঘর্ষ-হামলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আহত হলেও উল্টো মামলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেছেন একজন ছাত্রলীগ নেতা।
সুপ্রিম কোর্টের হামলার ঘটনায় গতকাল দেশের সব জেলা ও মহানগর ইউনিটে বিক্ষোভের ডাক দেয় ছাত্রদল। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারে এমন ধারণা থেকেই ক্যাম্পাসের পয়েন্টে পয়েন্টে অবস্থান নেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

মূলত গত সপ্তাহ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ক্যম্পাসে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মহড়া দিয়ে আসছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। হল ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল শোডাউন দিতেও দেখা যায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের।
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাই গত সপ্তাহের সংঘর্ষে মূল ভূমিকা পালন করেছে। গতকালও এসব হল থেকে হল শাখার নেতারা তাদের অনুসারীদের নিয়ে ছাত্রদল প্রতিহতে ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার হাইকোর্টের সামনে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ছাত্রলীগের এক নেতা। শুক্রবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। মামলায় আসামি করা হয়েছে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদসহ ১৭ নেতা এবং অজ্ঞাত ৫০-৬০ জন নেতাকে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মঙ্গলবার ছাত্রদলের হামলায় শহীদুল্লাহ হলের আটজন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ফজলুল হক, মুসলিম হল ও জগন্নাথ হলের আরও অনেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনদিন পর মামলা করার কারণ হিসেবে ছাত্রলীগ বলেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য মামলা করতে দেরি হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘আমরা ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে মধুর ক্যান্টিন থেকে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে শহীদুল্লাহ হলে ফেরার পথে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দোয়েল চত্বরসংলগ্ন কার্জন হলের সামনে রাস্তার ওপর পৌঁছামাত্র ছাত্রদলের ওই ১৭ নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জন লাঠিসোঁটা, রডসহ মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করেন। এতে শহীদুল্লাহ হলের আট সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ফজলুল হক, মুসলিম হল ও জগন্নাথ হলের আরও অনেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।

মামলায় যে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাজিব হোসেন, কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাইদুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইরফান আহমেদ, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহিনুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুত হাওলাদার বলেন, থানার উপ-পরিদর্শক আল আমিনকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Back to top button