নিরাপদ পানি পায় না দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ

দেশের মাত্র ৫৯ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পায়। বাকি ৪১ শতাংশই নিরাপদ পানি পায় না। অন্যদিকে নিরাপদ পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আছে ৩৯ শতাংশ ক্ষেত্রে।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘এডিপি বরাদ্দে আঞ্চলিক বৈষম্য: এসডিজি -৬ অর্জনে একটি বাধা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ২০২২-২৩ জাতীয় বাজেটে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে বরাদ্দ শিরোনামে বাজেট পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান।

ওয়াটারএইডের সহযোগিতায় পিপিআরসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপির মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ ছিল ওয়াশ খাতে। এ অর্থবছরে অত্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এসব এলাকায় বরাদ্দ ৫ বছর আগের তুলনায় ৭২ শতাংশ কমেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আর মাত্র ৮ বছর বাকি এসডিজি বাস্তবায়নের। কিন্তু এখানো ওয়াশ সম্পর্কিত লক্ষ্যমাত্রাগুলোর অগ্রগতি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ খাবার পানির ক্ষেত্রে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাতীয় অর্জন মাত্র ৫৯ শতাংশ। স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিনের অন্যান্য মৌলিক নির্দেশকের অগ্রগতি মাত্র ৫৮ শতাংশ এবং ‘সাবান অথবা পানি ছাড়া’নির্দেশকের জাতীয় অগ্রগতি মাত্র ৩৬ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এমডিজির পরবর্তীতে এসডিজির যুগে আমরা। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার ধরনে কিছু মানগত পার্থক্য রয়েছে। এমডিজিতে শুধু পানি পাওয়ার লক্ষ্য ছিল। এসডিজির লক্ষ্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা। পানি পেলেই তা নিরাপদ নয়। দেশের ৯৮ শতাংশ পানি পায়। কিন্তু ২০২১ সাল পর্যন্ত দেখা যায়, ৩৯ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পায়। নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার জন্য বাড়তি কর্মসূচি, নজর লাগবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গত বছর বাজেটে হাইজিন সংক্রান্ত বরাদ্দ ছিল শূন্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়সহ অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর এ বিষয়ে উদ্যোগের বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তারা কি পরিমাণ বরাদ্দ করছেন আর কিভাবে এ বিষয়টি বাস্তবায়নে কাজ করছে এটি জানানো প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা কিছু সুপারিশ উত্থাপন করেন। এর মাঝে রয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে মানসিকতার পরিবর্তন এবং কার্যকর এডিপি প্রকল্প নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা। অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকায় বরাদ্দ বাড়ানো ও আন্তঃশহর বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা উচিৎ। শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যবিধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ বাজেট বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশ, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), ইউনসেফ বাংলাদেশ, ফানসা-বিডি, এফএসএম নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ ওয়াটার ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক (বাউইন), স্যানিটেশন অ্যান্ড ওয়াটার ফর অল, অ্যান্ড ওয়াটার পোভার্টি, এমএইচএম প্ল্যাটফর্ম, ইউনিসেফ এবং ওয়াশ অ্যালায়েন্স ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

Back to top button