এবার নেদারল্যান্ডসে গ্যাস বন্ধ করলো রাশিয়া

রুবলে অর্থ প্রদানে করতে রাজি না হওয়ায় বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের পর এবার নেদারল্যান্ডসেও গ্যাস সরবরাহ স্থগিতের ঘোষণা দিল গ্যাজপ্রম। এর আগে ডাচ কোম্পানিটি গ্যাজপ্রমকে জানিয়েছিল, তারা রুবলে মূল্য পরিশোধ করতে চায় না, কারণ এর ফলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো লঙ্ঘিত হবে।

রাশিয়ার জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম সোমবার ঘোষণা করেছে যে এপ্রিলে গ্যাস সরবরাহের অর্থ পরিশোধ না করায় এবং রুবলে অর্থ প্রদানে করতে রাজি না হওয়ায় ৩১ মে থেকে গ্যাসটেরার কাছে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত করে দেবে। উল্লেখ্য, গ্যাসটেরা নেদারল্যান্ডসের প্রধান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান।

রাশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাজপ্রম এক বিবৃতিতে বলেছে, ’৩০ মে (চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থপ্রদানের সময়সীমা) পর্যন্ত সময়ে নেদারল্যান্ডের গ্যাসটেরার কাছ থেকে এপ্রিল মাসে গ্যাস সরবরাহের জন্য কোনো অর্থ পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। এই জন্য ৩১ মে প্রতিষ্ঠানটিকে গ্যাস সরবরাহ স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এর আগে ডাচ কোম্পানিটি গ্যাজপ্রমকে জানিয়েছিল, তারা রুবলে মূল্য পরিশোধ করতে চায় না, কারণ এর ফলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো লঙ্ঘিত হবে।

এর আগে পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া ও ফিনল্যান্ডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার পর রাশিয়া এবার নেদারল্যান্ডসেও বন্ধ করতে যাচ্ছে রাশিয়া।

মোট ৪টি দেশেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কারণ দেশগুলো রাশিয়াকে রুবলে অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকার করেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে পশ্চিমা মুদ্রায় আস্থা হারিয়েছে ক্রেমলিন। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধু নয় এমন দেশকে রুশ মুদ্রা রুবলেই জ্বালানির মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে অস্ট্রিয়ার তেল ও গ্যাস কংলোমরেট ওএমভি জানিয়েছে, রুশ গ্যাসের মূল্য রুবলে পরিশোধের জন্য রাশিয়ার ব্যাংক গ্যাজপ্রমের সঙ্গে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

যদিও ওএমভি দাবি করেছে, তাদের পদক্ষেপ মস্কোর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হবে না। অস্ট্রিয়া তার চাহিদার ৮০ শতাংশ গ্যাস রাশিয়া থেকে আমদানি করে।

রাশিয়ার মিত্র বেলারুশ এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার জ্বালানির মূল্য তারা রুবলেই দেবে।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রুবল শুরুতে দাম হারালেও পরে জ্বালানির ওপর ভিত্তি করে তা ঘুরে দাঁড়ায়। বর্তমানে ১ ডলারের বিপরীতে রুবলের দাম রয়েছে ৬৬.৫০।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

Back to top button