পিডিবির সুবর্ণজয়ন্তী: ৫০ বছরে উৎপাদন ক্ষমতা বেড়েছে ৫০ গুণ

যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে শিল্পের চাকা ঘোরানো এবং জনপদ আলোকিত করার লক্ষ্যে তখনকার ওয়াপদা বিভক্ত করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) গঠন করেছিল সরকার। শুরুতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ—অর্থাৎ গ্রাহক পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সব কাজই করত পিডিবি। এখন সে কাজের চেয়ে এ খাতের সমন্বয়ে ও নেতৃত্বে বেশি নিয়োজিত রয়েছে পিডিবি।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট। পিডিবির মালিকানাধীন কেন্দ্রগুলোই এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করত। এখন সেটি বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট। তবে এ বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের সিংহভাগ উৎপাদন করে সংস্থাটির আওতাধীন বিভিন্ন কোম্পানি এবং বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি। তাদের বিদ্যুৎ পাইকারি দরে কিনে নিয়ে বিতরণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। এই পরিক্রমায় দেশ এখন শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায়, আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামনে থেকে এ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছে পিডিবি।

পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কাজ করছে পিডিবি। ৫০ বছরে পিডিবির অভিজ্ঞতা এবং অর্জন অনেক। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে সংস্থাটির কাজের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষতা ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ২০৪১ সাল নাগাদ দেশে বিদ্যুৎ উত্পাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে টেকসই ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে চেকোস্লোভিয়ার সহায়তায় খুলনায় ৬০ মেগাওয়াটের এবং ১৯৭৪ সালে ঘোড়াশালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্কেন্দ্র নির্মাণ করেন। আরো কয়েকটি কেন্দ্র ও ইউনিট নির্মাণের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে উৎপাদন ক্ষমতা ৭৬৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সরকারের সময় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়ে ২০০৯ সালের শুরুতে উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। সেই ক্ষমতা পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে এখন সাড়ে ২৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। যা ১৯৭২ সালের সক্ষমতার চেয়ে ৫০ গুণ বেশি।

যে চ্যালেঞ্জ সামনে :পিডিবির দুইটি বড় চ্যালেঞ্জর মধ্যে একটি হলো—গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী সহনশীল মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন। অর্থাৎ উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও উত্স জ্বালানির (তেল, গ্যাস, কয়লা, নিউক্লিয়ার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি) অভাবে এবং সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জনগণের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এছাড়া বর্তমানে জ্বালানি মিশ্রণে ভারসাম্য এবং মেশিনারি এফিশিয়েন্সি সার্বিকভাবে আদর্শ মানদণ্ডের নিচে রয়েছে। এক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে থাকা সব সংস্থা-কোম্পানিগুলোকে।

Back to top button