ধানের মান নষ্ট, আশানরুপ দাম পাচ্ছেন না ফুলবাড়ীর বোরো চাষিরা

ঘন ঘন বৃষ্টির প্রভাবে নষ্ট হয়ে গেছে ধানের মান। এতে উপজেলার হাট-বাজারে দাম ভালো থাকলেও বোরো ধান কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কৃষকদের। ফলে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না তারা।

সরেজমিন উপজেলার বড় ধানের মোকাম মাদিলাহাট, আটপুকুরহাট, পুখুরীহাট, বরাইহাট, মেলাবাড়ী ও আমডুঙ্গিহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটজুড়ে শুধু ধান আর ধান। একই ধান বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। যেসব ধানের মান ভালো তার দাম এক হাজার টাকার ওপরে মণ বিক্রি হচ্ছে। আবার একই জাতের ধান বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায়। আর একেবারেই মান কম এমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিনিকেট হিসেবে পরিচিত সরু ধান (ভালো মানের) প্রতি মণ এক হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার একই ধান যেগুলো বৃষ্টিতে কিছুটা রং নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। একই অবস্থা ছিল ব্রি-২৮ ধানের ক্ষেত্রেও। এই জাতের ধান ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে বৃষ্টিতে নষ্ট অনেক নিম্নমানের ধান বিক্রিও করতে পারছেন না চাষিরা।আমডুঙ্গিহাটে ধান বিক্রি করতে আসা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক সুবাস চন্দ্র রায় জানান, ক্রেতারা খুব হিসেব করে ধান কিনছেন। যারা বৃষ্টির আগে ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছেন তারা ধানের দাম বেশি পাচ্ছেন। আর আমাদের মতো যে সব চাষি আছেন যারা বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের কপাল পুড়েছে।

আসাদুল হক নামের আরেক কৃষক জানান, দুই সপ্তাহ আগেও এই বাজারে ধান বিক্রির সময় ক্রেতাদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়নি। বর্তমানে আমরা বাজারে ধান এনে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছি। আড়ৎদার ও মিলাররা ধানের মান একটু নিম্ন হলেই তা আর নিতে চাচ্ছেন না। আর নিলেও তা কম দামে। বাজারে ধানের দাম ভালো হলেও কৃষকদের লাভ হচ্ছে না।আড়ৎদার রতন চক্রবর্তী জানান, এবার ধান সমস্যায় আছি। কারণ বাজারে ধানের মধ্যে কোনটি ভালো কোনটি খারাপ যাচাই করতে হচ্ছে। ধান কিনে বিভিন্ন মিলে দিয়ে চাল তৈরি করা হয়। ধানের মান যদি ভালো না হলে চালের মানও ভালো হবে না। এজন্য ভালো ধান কিনতে হচ্ছে।ফুলবাড়ী চাউলকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মিলারদের চাল গুদামে দিতে গেলে চালের মান যাচাই বাছাই করে নেওয়া হয়। চালের মান খারাপ হলেই ফেরত দেওয়া হয়। এজন্য কেনার সময় ধানের মান দেখে কিনতে হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, উপজেলায় এ বছর ১৪ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এ বছর উপযুক্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

Back to top button