রাজধানীতে সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে চিন্তিত আওয়ামী লীগ

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। থানা-ওয়ার্ডের কমিটিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। একই অবস্থা বিরাজ করছে প্রায় সব সহযোগী সংগঠনগুলোতে। মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ অধিকাংশ সহযোগী সংগঠনের কমিটির মেয়াদ নেই। উত্তর-দক্ষিণ যুবলীগের শীর্ষ চার পদের তিনটিই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। সম্মেলনের আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগে। তিন বছরের কমিটি চার নেতায় আড়াই বছর পার করেছে। রাজধানীর আওতাধীন স্বেচ্ছাসেবক লীগের থানা-ওয়ার্ড কমিটির অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে ঢাকার সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে এখন চিন্তিত আওয়ামী লীগ।

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত আবারও জ্বালাও-পোড়াওসহ নাশকতা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে রাজধানীর সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। ঢাকায় ‘সাংগঠনিক দুর্বলতা’ কাটিয়ে উঠতে মহানগর আওয়ামী লীগের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইউনিট পর্যায়ে সম্মেলন হচ্ছে। এর আগে ইউনিট পর্যায়ের দায়িত্ব ওয়ার্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়া হতো। ইউনিট সম্মেলন এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে ঢাকা মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটকে ঢেলে সাজানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণ। ঢাকায় সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল থাকলে সারা দেশে সবল থেকে লাভ নেই। তাই দ্রুত ঢাকায় সংগঠনকে দ্রুত ঢেলে সাজানো হবে। বর্তমানে ইউনিট কমিটি গঠন চলছে। এটা দ্রুত শেষ করে থানা-ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন দেওয়া হবে। আগস্টের মধ্যেই ঢাকা মহানগর উত্তরের অধীনস্থ থানা ও ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ চায়, আগামী সেপ্টেম্বরে থানা সম্মেলন করতে। ঢাকা মহানগরে ওয়ার্ড আছে প্রায় ১৫০টি। থানা আছে প্রায় ৫৪টি। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদ বেড়েই চলেছে। নেতায় নেতায় খুনোখুনি, পালটাপালটি হামলা-মামলার ঘটনাও ঘটেছে। ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এতে উত্তরের সভাপতি হন শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হন এস এম মান্নান কচি। আর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহাম্মদ মন্নাফি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির। এই চার নেতা গত রবিবার গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগকে আরো সুসংগঠিত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, বিএনপিকে আন্দোলন করতে দিতে হবে, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু অতীতের মতো আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস, নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা যেন সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মহানগরের নেতাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, যাতে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা যায়। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগরে সাংগঠনিক অবস্থা, কোন্দল নিয়ে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে দলকে গুছিয়ে শক্তিশালী করতে হবে। আওয়ামী লীগে যেন কোনো জামায়াতসহ বিরোধী মতাদর্শী ও বিতর্কিত ব্যক্তি ঢুকতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মনে রাখতে হবে, ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’। উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। সাধারণত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে ঢাকা মহানগরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের তিন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, মহানগরের নেতৃত্ব ঢেলে সাজানো না হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফসল ঘরে তোলা কষ্টকর হবে। বিএনপি-জামায়াত এখনই হুংকার দেওয়া শুরু করেছে। তারা জাতীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের শোডাউন দিচ্ছে। এর বিপরীতে কোনো ধরনের শক্তি দেখাতে পারছে না মহানগর আওয়ামী লীগ কিংবা সহযোগী সংগঠন।

Back to top button