দেশ অস্থিতিশীল করতে জামায়াত-শিবিরের পাঁয়তারা চলছে

দেশকে অস্থিতিশীল করতে জামায়াত-শিবির থেমে নেই। তারা বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করছে। ধর্মীয় অনুভূতিকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ১৯৭১ এর চেতনা লালন করতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আলোচনার বিষয় ছিলো ‘বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামের উত্থান, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি।শহীদ ডা. জামিল আকতার রতনের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৯৮৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের হামলায় তার মৃত্যু হয়। সে সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড নুর আহমেদ বকুল। জামিল রতনের স্মরণে তিনি বলেন, ‘সে সময়ে জামাত শিবিরের তৎপরতা ছিলো মাত্রাতিরিক্ত। তারা প্রকাশ্যে জামিলকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এমন হাজারও জামিলকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলার জন্য।’

সভায় বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জামায়াত ইসলাম পরিকল্পিতভাবে গঠিত। এবং তারা পরিকল্পনা অনুযায়ীই কাজ করছে দেশকে অশান্ত করতে। কোরআন হাদীসের অপব্যাখ্যা দিয়ে সব সময় অন্যায় আচরণ করেছেন। বাংলাদেশকে তারা কারবলায় পরিণত করতে চায় এটা স্পষ্ট। সভায় দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সমকালের উপসম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ ও সাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ ও লালন করতে হবে। এখন রাজনীতিতে কৌলাকৌশলের খেলা চলে, যেখানে নীতি বিসর্জিত হচ্ছে। বামদের আরও শক্তিশালী করতে হবে, একতাবদ্ধ হতে হবে। তবেই জামিল আক্তারের আত্না শান্তি পাবে।

সম্প্রতি নরসিংদী রেলস্টেশনে পোশাকের জেরে তরুণীকে হেনস্তার ঘটনা তুলে ধরে রিচার্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (আরডিসি) সাধারণ সম্পাদক জান্নাত ফেরদৌস লাকী বলেন, ‘মৌলবাদী চিন্তাধারা মানুষকে গ্রাস করছে। সকল জায়গায় নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে। সামান্য টিপ পরলে অনেকের সহ্য হচ্ছে না। কে কী পোশাক পরবে বা কীভাবে চলবে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু তা সর্বদা খর্ব করা হচ্ছে। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ অন্যান্য নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Back to top button