বাটন মোবাইলেই দিব্যি চলে যায় প্রধানমন্ত্রীর

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে যেখানে সবাই খরচের বন্যা বইয়ে দেন, সেখানে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী পুরোপুরি বিপরীত দিকে হাঁটছেন। চিন্তা করা যায়, ইউরোপের একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগের সঙ্গী বাটন ফোন! খবর জাকার্তা পোস্ট ও ব্লুমবার্গ।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ কিছু মেসেজের ব্যাপারে আলোচনা উঠলে বিষয়টি ভাইরাল হয়। প্রায় সাত ফুট উচ্চতার ছিপছিপে গড়নের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট। হঠাৎ করে তার প্রশাসনের সাথে যুক্ত লোকজন আবিষ্কার করেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেসব গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ পাঠানো হয়েছিল সেগুলো আর পাওয়া যাচ্ছে না। পরে মার্ক রুট জানান, প্রযুক্তির কোনো সমস্যা নয় বরং নিজেই ফোন থেকে সব মেসেজ ডিলিট করে দেন। এমনকি করোনা মহামারি সংক্রান্ত যেসব মেসেজ তার কাছে পাঠানো হয়েছিল সেগুলোও তিনি মুছে দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভায় হইচই শুরু হয়। এমনকি মার্ক রুটের দায়িত্বজ্ঞান নিয়েও কথা ওঠে। এসবের জবাবে ডাচ প্রধানমন্ত্রী জানান, বাটন মোবাইলে বেশি মেসেজ জমে গেলে নতুন করে আর মেসেজ আসতে পারে না। তাই তিনি পুরোনো সব মেসেজ ডিলিট করে দিয়েছেন। করোনায় গরীব হয়ে যায়নি নেদারল্যান্ডস। করোনা পরবর্তী সময়েও ইউরোপের এ দেশটির মাথাপিছু আয় প্রায় ৬১ হাজার মার্কিন ডলার। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলের এ অবস্থা কেন? হাতে সামান্য একটা স্মার্ট ফোনও নেই! এ নিয়ে সবাই রীতিমতো ধাক্কা খায়।

জানা গেছে, মার্ক রুট অতি সাধারণ জীবন যাপন করেন। তাই তার মোবাইলের এ অবস্থা। কিন্তু সময়ের সাথেও তো তাল মেলাতে হবে। তাই সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেই রুটকে এবার একটি স্মার্টফোন সরবরাহ হবে, যেটা তিনি অফিসের কাজে ব্যবহার করবেন। তবে ডাচ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানের অভাব নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সেটার কী হলো? রুট বলেন, যেসব মেসেজ ফরওয়ার্ড করা দরকার ছিল, সেগুলো জায়গামতো ফরওয়ার্ড করে দিয়েছি। আর অন্যসব দরকারি তথ্য ডিলিট করার মাধ্যমে গোপন করেছেন বলে যে অভিযোগ বিরোধীপক্ষ করছিল, তার জবাবে তিনি হেসে বলেন, সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় সংরক্ষণাগারে পাঠিয়ে দিয়েছি।

Back to top button