ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই

সরকার বিগত ১৩ বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ মন্তব্য করেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা থেকে উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই। ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আব্দুর রব, আমান উল্লাহ আমান, নুরুল হক নুর, জিএস খাইরুল কবির খোকন ও এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার নিজেদের ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে দেশকে মেধাহীন করার সকল ব্যবস্থা করছে। গত ১৩ বছর যাবৎ পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নাম প্রমাণসহ উঠে আসার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। উপরন্তু সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের পক্ষ থেকে প্রমাণিত সত্যকে অস্বীকার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকারের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়েছে।

যে সকল সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ নিরপেক্ষভাবে সত্যিকারের শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষাদানের চেষ্টা করছে তাদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তাদের দলীয় ছাত্র সংগঠনকে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত করেছে। ১৩ বছর ধরে ভিন্ন রাজনৈতিক মতের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করা তো দূরের কথা নিয়মিত পাঠদান কর্মসূচি এমনকি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। সরকারি দলের সন্ত্রাসী ছাত্র সংগঠন চর দখলের ন্যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দখল করে রেখেছে। এমনকি তাদের দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়।ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, গত ২৪ ও ২৬শে মে ছাত্রদলের নেতাকর্মীর ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে সরকারি দলের সন্ত্রাসী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। তারা মধ্যযুগীয় কায়দায় নিষ্ঠুরভাবে রাস্তায় ফেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পিটিয়েছে। এমনকি তারা কাপুরুষের মতো নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হাত-পা ভেঙে দেয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বর্বর হামলার ঘটনা পাকিস্তান আমলেও ঘটেনি। হামলার ঘটনায় আহত এসব বিরোধী রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি। তাদের মধ্যে কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি আছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব চিত্র উঠে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু হামলার শিকার ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলকে দায়ী করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মামলা করেছেন।তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে এই ঘটনার সত্যতা নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনিও প্রক্টরের মতো ছাত্রদলকে দায়ী করেন এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ চার শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর সম্পূর্ণ দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। নিঃসন্দেহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশেই ছাত্রলীগ এ হামলা চালিয়েছে।

মান্না বলেন, দেশের সকল শিক্ষাঙ্গন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষাঙ্গনকে বাঁচানোর দায়িত্ব শুধু সংগঠনগুলোর ও রাজনৈতিক দলগুলোর না। এ দায়িত্ব সবার। তাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষাঙ্গনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে আমরা ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ দেশের সকল ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবীসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের বর্তমান ছাত্র সংসদকে দখলদারদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।তিনি বলেন, দেশ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সরকার দেশের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা খুন, গুম, নির্যাতন ও হামলা-মামলার মাধ্যমে বিরোধী মতকে দমন করে একটি একনায়কতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের জনগণ বিশেষ করে ছাত্র সংগঠন তা রুখে দাঁড়িয়েছে। সেই আন্দোলনে আমরা সাবেক ডাকসু নেতৃবৃন্দ ছাত্র সমাজ তথা সকল আন্দোলনকারী শক্তির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।

Back to top button