সন্তানের মুখে খাবার নিশ্চিত করতে দিনে একবার খাবার খান যে মা

বৃটেনে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। তারই এক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে সিঙ্গেল মা ক্লেয়ার পালফ্রের (৩৮) কাহিনীতে। বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ বলছে, সন্তানদের মুখে যাতে খাবার তুলে দিতে পারেন, সে জন্য তিনি গত দুই মাস ধরে দিনে একবার মাত্র খাবার খান। তিন সন্তানের মা ক্লেয়ার পালফ্রে বলেছেন, বছরের শুরুতে সপ্তাহে জ্বালানি খাতে তার খরচ হতো ১০ পাউন্ড। কিন্তু সেই খরচ এখন দ্বিগুনেরও বেশি। এখন তাকে সপ্তাহে এ খাতে খরচ করতে হয় প্রায় ২৫ পাউন্ড। এ অবস্থায় দরিদ্র সব পরিবারের শিশুদেরকে স্কুলে ফ্রি মিল বা বিনামূল্যে খাবার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বলেন, যদি স্কুল থেকে বাচ্চাদের খাবার দেয়া হতো তাহলে এসব পিতামাতাকে তার সন্তানের জন্য স্কুলের খাবার দেয়ার জন্য অর্থ সন্ধান করে বেড়াতে হতো না। এর ফলে যে অর্থ সেভ হতো, তা দিয়ে তারা বাড়িতে খাবার কিনতে পারতেন।

সাপ্তাহিক কেনাকাটায় মূল্য বেড়েছে। এ জন্য নিজে প্রতিদিন সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবার এড়িয়ে চলেন।শুধু সন্ধ্যায় ছেলে ড্যান (১৭), থিও (৯) এবং স্যামুয়েলের (৭) সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খান। একটি বিশেষ স্কুলে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন গ্রিমসবি’র ক্লেয়ার পালফ্রে। বলেছেন, জানুয়ারিতে আমার আয় কমে যাওয়ার কারণে সকালের নাস্তা খাওয়া বাদ দিতে শুরু করেছি। তারপরও দেখি আমার জ্বালানি খরচ বাড়ছেই। সুতরাং এপ্রিলে সিদ্ধান্ত নিই দুপুরের খাবারও খাবো না। যদি শুধু খাবারের দাম বাড়তো তাহলে হয়তো মানিয়ে নিতে পারতাম। কিন্তু আমার গ্যাস, কারেন্টের মূল্য অনেক বেড়েছে। এতে আমি আর পেরে উঠছি না। ফলে আমাকে দিনে একবার খাবার খেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে, যাতে আমার সন্তানরা অনাহারে না থাকে।

মাঝে তিনি একটু চা পান করে নেন। হঠাৎ কখনো একপিস স্যান্ডউইচ খান। তবে তা বিরল। এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। প্রথম প্রথম খুব ক্লান্ত বোধ করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা মানিয়ে গেছে শরীরের সঙ্গে।ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পরিবারগুলোর সন্তানদের বিনামূল্যে খাবার দেয়ার দাবি যখন জোরালো হয়েছে, তখনই ক্লেয়ার পালফ্রের এই রিপোর্ট প্রকাশ হলো। এখানে উল্লেখ্য, কোনো পরিবারের যদি অন্যান্য সুযোগসুবিধা বাদ দিয়ে বার্ষিক আয় ৭৪০০ পাউন্ডের কম হয়, তাহলেই ওই পরিবারের সন্তানদেরকে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের আওতায় বিনামূল্যে খাবার দেয়ার বিধান আছে।

Back to top button