ডলারের বেঁধে দেয়া দাম তুলে নেয়া হবে

ডলারের সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত রোববার দাম বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে চলতি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় ডলারের দাম বেঁধে দেয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, খোলা বাজারের তুলনায় আন্তঃব্যাংক পর্যায়ে ডলারের দাম কম হওয়ায় হুন্ডির মাধ্যমে আসছে রেমিট্যান্স। এতে বৈধপথে প্রবাসী আয়ে বড় ভাটা পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ডলারের বেঁধে দেয়া দাম তুলে নেয়া হবে কিনা- সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। বুধবার রাতে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম মনে করেন, বেঁধে দেয়া দাম তুলে দেয়ার কোনো অবকাশ নেই। এর সঙ্গে প্রবাসী আয় কমারও কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। আজ মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বাফেদ এবং এবিবির সঙ্গে আলোচনা করে। এখন এই নির্ধারণ যদি কার্যকর না হয় তাহলে পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনা করে আরেকটি রেট ধরা হতে পারে, এখানে রেট উঠিয়ে দেয়ার কোনো অবকাশ নেই। কারণ রেট তো একটা থাকতেই হবে।

বাজারের সঙ্গে এই রেট যদি সমন্বয় না হয় তাহলে পুনরায় রেট ফিক্সড করা হতেই পারে। তবে আপাতত এ নিয়ে জোরালো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি। মুখপাত্র বলেন, ডলারের দাম বেঁধে দেয়ার ফলে প্রবাসী আয় কমেছে বলে আমি মনে করি না। কারণ দাম নির্ধারণ হয়েছে এক সপ্তাহ হয়েছে। কিন্তু আগে থেকেই তো কম ছিল। গত রোজার ঈদে বেশি এসেছে, সেই তুলনায় এ মাসে কম আসছে। এটা খুবই স্বাভাবিক যে অন্য সময়ের তুলনায় ঈদের আগে রেমিট্যান্স বেশি আসে। এ মাসে কম আসছে, আবার কোরবানির ঈদে বেশি আসবে। সুতরাং ঈদের সময়ের সঙ্গে অন্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনা করলে হবে না।

ডলারের দাম বাড়তে থাকায় গত রোববার আমদানি, রপ্তানি ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম কত হবে, তা বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানি বিল নগদায়নে ৮৮ টাকা ১৫ পয়সা, আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের দাম ৮৯ টাকা ও আমদানিকারকদের কাছে বিক্রিতে ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা দাম নির্ধারণ করে দেয়। আর প্রবাসী আয়ে সর্বোচ্চ ৮৯ টাকা ২০ পয়সা দাম দিতে বলা হয়। তবে চলতি সপ্তাহে প্রবাসী আয় কমে যায়। পাশাপাশি রপ্তানিকারকরাও বিল নগদায়ন করছেন না। দাম বাড়বে এমন আশায় ধরে রাখছেন বিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৯ টাকা) এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। এ অংক আগের মাসের চেয়ে ১২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার কম। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার কম। ফলে প্রায় ১৩ শতাংশ কমলো প্রবাসী আয়। গত এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১ কোটি ৮ লাখ ডলার। আর গত বছর মে মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

Back to top button