রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, বড় ক্ষতি পশ্চিমা বিশ্বেরই

কেবল ঘৃণার বশবর্তী হয়ে পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার সাথে যা করেছে, তাতে হয়তো দেশটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশগুলো আরো বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর মাধ্যমে তারা রাশিয়ার বিশাল বাজার হারিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির সাথে সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা সংস্থা রোস্টেক করপোরেশনের প্রধান সের্গেই চেমেজভ এ মন্তব্য করেন।

সের্গেই চেমেজভ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার একটি জনপ্রিয় লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যমে পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার আর্থিক, শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাত এবং সেইসাথে এর নাগরিকদের ধ্বংস করে ফেলতে চায়। কিন্তু বিষয়টির শুরু এখন নয় বরং বছরের পর বছর ধরে আমরা তাদের আরও বেশি নতুন নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং অন্যান্য শত্রুতামূলক কর্মের অজুহাত খুঁজতে দেখেছি।

তবে বর্তমান অবরোধ-নিষেধাজ্ঞাকে সত্যিই নজিরবিহীন উল্লেখ করে চেমেজভ বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মুক্ত বাণিজ্য ও বিশ্বাসের নীতিগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসম্মান করছে।তিনি সতর্ক করে বলেন, আজ রাশিয়াকে টার্গেট করা হচ্ছে। আগামীকাল বিশ্ব রাজনীতিতে স্বাধীন অবস্থানে থাকা অন্য কোনো দেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এক্ষেত্রে তিনি তুরস্কের উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা কেনায় আঙ্কারা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে। আরো অনেকে এ কাজ করলেও তুর্কিই এ সমস্যার মুখে পড়ে।রাশিয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াগুলো থেকে মস্কোকে বাদ দেওয়ার এবং এর প্রযুক্তিগত বিকাশকে সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার প্রতি বিদ্বেষ তাদেরকে এমন অন্ধ করে ফেলেছে, তারা অর্থনৈতিক বাস্তববাদের অটল নীতি পরিত্যাগ করতেও প্রস্তুত।

চেমেজভ বলেন, পারস্পরিক অংশীদারিত্বের যে বিষয়গুলো রাশিয়া ছাড়াও অন্যদের জন্য উপকারী ছিল, তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এতে পশ্চিমা সরবরাহকারীরা রাশিয়ায় একটি বড় বাজার হারিয়েছে। দেশগুলোর এমন সিদ্ধান্তে তারা তাদের পণ্য রাশিয়াতে সরবরাহ করার সুযোগ হারিয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্ষতির মুখে পড়েছে।চেমেজভ স্বীকার করেন, চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া কিছু অসুবিধার মুখে পড়েছে, কিন্তু এগুলো তেমন মারাত্মক কিছু ছিল না বরং এগুলো রাশিয়ার জন্য সুযোগ খুলে দিয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার জন্য আশীর্বাদ হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে এখন রাশিয়ায় স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটছে। মস্কো এখন এমন অনেক পণ্য উৎপাদন করছে, যা আগে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করত।

চেমেজভের মতে, নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার চেয়ে পশ্চিমা উৎপাদকদের জন্য আরও বেদনাদায়ক প্রমাণিত হতে পারে। কারণ তারা এমন কিছু পণ্যও তৈরি করতো, রাশিয়া ছাড়া যার অন্য কোনো ক্রেতা নেই। ফলে তাদেরকে সেসব পণ্য উৎপাদন বাতিল করতে হবে।দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারে চেমেজভ আরো বলেন, রাশিয়ান এয়ারলাইন্সের বহরে থাকা সব বিদেশি বিমান যাতে চালু থাকে তা নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করবে মস্কো। সেই সাথে এখন তারা স্থানীয়ভাবে সব ধরনের বিমান তৈরির দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে।

আর্থিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, রোস্টেক অনেক আগেই ডলারের ব্যবহার থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেছিল। প্রথমে আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল, কিন্তু সময় দেখিয়েছে, এটাই ছিল সঠিক। এখন অনেক দেশ আমাদের অনুসরণ করতে শুরু করেছে এবং নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেদের জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

Back to top button