পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে ঠাকুরগাঁও হাসপাতাল তত্বাবধায়কের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

জসিম উদ্দিন ইতি ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ঃ হাসপাতালের বিভিন্ন সরবরাহ কাজের টেন্ডার ওপেন করা নিয়ে তত্বাবধায়ক এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে তেমনি অপরদিকে জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরের ভয়াবহ অনিয়ম দুর্নিতির চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে এসেছে। ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়কের এহেন কর্মকান্ড হাসপাতালের চলমান নানা অনিয়মের আর এক খতিয়ান উন্মুক্ত করেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার মোহাঃ ফিরোজ জামান ভর্তি রোগীর পথ্য সরবরাহ,মনিহারি ও বিবিধ দ্রব্যাদি সরবরাহ,এবং লিনেন ধোলাই কাজের জন্য ১৭ মে তারিখে দরপত্র আহবান করেন। দরপত্র জমা দেয়ার সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২জুন। একই দিন অর্থাৎ ২জুন দুপুর ১ঘটিকায় দরপত্র দাতাগণের সন্মুক্ষে(যদি কেউ উপস্থিত থাকেন)দরপত্র খোলার কথা “দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে” সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও ওই দিন(২জুন)উক্ত সময়ে উপস্থিত দরদাতাগনের সামনে কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র দরপত্র বাকসের তালা খোলেন। এরপর বাকসে থাকা রোগীর পথ্য সরবরাহ কাজের ৫টি,মনিহারি ও বিবিধ দ্রব্যাদি সরবরাহ সরবরাহ কাজের ৩টি ,এবং লিনেন ধোলাই কাজের ৩টি দরপত্র হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাঃ ফিরোজ জামান নিজের কাছে রেখে দেন। উপস্থিত দরপত্রদাতা ঠিকাদারগণ দরপত্র খুলে কার কত দর দেয়া হয়েছে এবং দরদাতার নাম জানতে চাইলে ডাঃ ফিরোজ উপস্থিত পুলিশের সামনেই ঠিকাদারদের তার কক্ষ থেকে বের করে দেন। ঠিকাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করলে ডাঃ ফিরোজ বলেন “পিপিআর আইনে এ এধরণের কোন নিয়ম নেই।ঠিকাদাররা শুধু খাম গুনে দেখতে পারবে, খামের ভেতর কী আছে তা দেখার এখতিয়ার তাদের নেই।আপনারা খাম গুনে দেখে এখান থেকে চলে যান”।

এ বিষয়ে জেলার সিনিয়র সরবরাহকারী ঠিকাদার আব্দুল করিম বলেন“ ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার মোহাঃ ফিরোজ জামান যে কথা বলেছেন তা সঠিক নয়। ঠিকাদারদের সামনে প্রদত্ত দর না দেখানোয় পুরো টেন্ডার প্রকৃয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছেন তিনি। একেই তো দরপত্র আহবান ছিল প্রশ্নবিদ্ধ । চলতি অর্থ বছরের(২০২১-২২) এ ১৫ দিনের জন্য টেন্ডার আহবান করে তিনি বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন। এখন আবার সেই দরপত্র গোপনে খুলে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে নিজের পকেট ভারি করতে চাচ্ছেন তিনি”।

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ ফিরোজ জামানের উক্ত দরপত্র নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত,অর্থবছর(২০২১-২২)শেষ হওয়ার প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে দরপত্র আহবান এবং নানাবিধ অনিয়ম দুর্নীতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন ঠিকাদাররা।

Back to top button