পুরুষ নয়, নিজেকেই নিজে বিয়ে করছেন ভারতীয় যুবতী

বিপরীত লিঙ্গের দু’জন মানুষের মধ্যে সমাজ, ধর্ম ও রাষ্ট্র স্বীকৃত সম্পর্কের নিবন্ধিত রূপই হলো বিয়ে। কিন্তু সমলিঙ্গেও বিয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে অহরহ। তা সে হোক ছেলেতে-ছেলেতে বা মেয়েতে-মেয়েতে বিয়ে। আবার কেউ গাছের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আরও অনেক উদাহরণ আছে। কিন্তু ভারতে কেশামা বিন্দু’র কথা আলাদা। একেবারেই আলাদা। ২৪ বছর বয়সী এই যুবতী কোনো পুরুষ, কোনো নারীকে বিয়ে করছেন না। তিনি নিজেকেই নিজে বিয়ে করছেন। আগামী ১১ই জুন ভারতের বড়োদরায় একটি মন্দিরে এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।

তাতে পরিবারের সদস্যরা এবং বন্ধুবান্ধব উপস্থিত থাকবেন। এমনকি সেই বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রও তৈরি করেছেন। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, তিনি মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য এমন আয়োজন করেছেন।  কেশামা বিন্দু সমাজবিজ্ঞানের একজন গ্রাজুয়েট। ভারতের গুজরাটে তার বাড়ি। অনলাইনে তিনি একজন ‘ডিজিটাল ক্রিয়েটর’ অর্থাৎ ব্লগার। বিন্দু বলেছেন তিনি আত্মনির্ভরশীল হতে চান। নিজেকে তিনি সবচেয়ে ভালবাসেন। সেই ভালবাসাকে পুঁজি করে বাঁচতে চান। এ জন্য নিজেকেই বিয়ে করবেন। তারপর দক্ষিণের রাজ্য গোয়াতে যাবেন দুই সপ্তাহের হানিমুনে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিয়ের আইনগত বৈধতা থাকবে না। টুইটারে একজন লিখেছেন, নিজেকে বিয়ে না করেও আপনি নিজেকে নিয়ে বাঁচতে পারেন। আপনি শুধু মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। আপনি আসলে ভাল খেলোয়াড় এক্ষেত্রে। আরেকজন লিখেছেন, জাস্ট একটি কৌতুক। আরেকজন লিখেছেন, ক্রেজি, যতটা পারেন মনোযোগ নিয়ে নিন।

এ নিয়ে এনডিটিভিকে বিন্দু বলেছেন, আমি মনে করি আমার কোনো যুবরাজের প্রয়োজন নেই। কারণ, আমিই আমার রানী। আমি বিয়ের দিনটির জন্য অপেক্ষায় আছি। পরের দিনের জন্য নয়। এ জন্যই ১১ই জুন নিজেকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এদিন আমি কনের সাজে সাজব। ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করবো। আমার বন্ধুরা এতে যোগ দেবে। তারপর আমি বাসায় ফিরে আসব। বরের বাড়ি যাবো না।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন ১১ই জুন সকাল সকাল অনুষ্ঠান শুরু হবে। অনুষ্ঠান শুরু হবে গায়ে হলুদের মধ্য দিয়ে। এদিন সকালে গান ও নাচের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এরপর হাতে মেহেদি পরবেন। মন্দিরে যাওয়ার আগে চুলে বিশেষ পাউডার মাখবেন। মন্দিরে গিয়ে তিনি পবিত্র এক অগ্নি প্রজ্বলন করবেন। এর চারপাশে সাত পাক দেবেন একা একা। বাড়ি ফেরার পর দু’সপ্তাহের ছুটিতে হানিমুন করতে যাবেন গোয়ায়।

বিন্দু জানিয়েছেন এক্ষেত্রে তিনি তার পিতামাতার অনুমোদন নিয়েছেন। তার পিতা দক্ষিণ আফ্রিকার একজন ইঞ্জিনিয়ার। মা-ও ইঞ্জিনিয়ার। তার বাড়ি আহমেদাবাদ। বিন্দু বলেছেন, তিনি বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে একজন পুরোহিতকে ঠিক করেছেন।

বিন্দু বলেন, ভারতে আমি দেখতে পেয়েছি নিজেকে বিয়ে করা জনপ্রিয় কোন রীতি নয়। তাই আমি এই ধারা এখানে শুরু করতে যাচ্ছি, যাতে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হয়। অনেকেই আমার এই আইডিয়াকে পছন্দ নাও করতে পারেন। তবে আমি নিশ্চিত যে, আমি সঠিক কাজটিই করছি। ভারতের হাইকোর্টের একজন আইনজীবী কৃষ্ণনাকান্ত ভাখারিয়া বলেছেন, আইন বলে বিয়ে হতে হবে দু’জন মানুষের মধ্যে। তাই নিজেকে নিজে বিয়ে করার কোনো বৈধতা পাবে না।

Back to top button