ইউক্রেন থেকে গম রপ্তানিতে পুতিনের আপত্তি নেই

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন থেকে গম রপ্তানিতে কোনো ‘সমস্যা নেই’। শুক্রবার একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন তিনি। পুতিন বলেন, ইউক্রেনের বন্দরগুলো দিয়ে গম রপ্তানি হতে পারে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্য বন্দর দিয়েও হতে পারে। এমনকি মধ্য ইউরোপ দিয়েও গম রপ্তানি হতে পারে। খবর এএফপির।

সাক্ষাৎকারে পুতিন অভিযোগ করেন, ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানিতে মস্কো বাধা দিচ্ছে বলে পশ্চিমারা দাবি করছে এবং হুঙ্কার দিচ্ছে। এ সময় পুতিন উল্লেখ করেন, আজভ সাগরস্থ ইউক্রেনের মারিওপোল এবং বারদিয়ানস্ক বন্দরগুলো ব্যবহার করেও পণ্য রপ্তানি করা যেতে পারে। আজভ সাগরের এই পথ দিয়েই কৃষ্ণ সাগরে প্রবেশ করা যাবে। যদিও উভয় দিকই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দর, বিশেষ করে ওডেসাও ব্যবহার হতে পারে। তবে তিনি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দরগুলোর আশপাশ থেকে দেশটিকে মাইন সরাতে বলেছেন। এর বিনিময়ে রাশিয়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে যেতে দেবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, রোমানিয়া, হাঙেরি বা পোল্যান্ড হয়ে দানিউব নদীপথও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বেলারুশ হয়ে যাওয়া পথটি সবচেয়ে সাধারণ, সহজ এবং সুলভ হবে। ওই পথ দিয়ে বাল্টিক বন্দরগুলোতে যাওয়া যাবে। সেখান থেকে বাল্টিক সাগর এবং তারপর পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় যাওয়া যাবে। তবে পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার মিত্র বেলারুশ হয়ে যাওয়া পথটা শর্ত সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে। এই পথটি ব্যবহার করতে হলে বেলারুশের ওপর দেওয়া পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট তৈরির আশঙ্কার কথা বলছে পশ্চিমা নেতারা এবং বিভিন্ন সংস্থা। যুদ্ধ শুরুর আগে ইউক্রেনকে বিশ্বের রুটির ঝুড়ি হিসেবে দেখা হতো। দেশটি প্রতি মাসে ৪.৫ মিলিয়ন টন কৃষিপণ্য নিজেদের বন্দরগুলো দিয়ে রপ্তানি করতো। এর মধ্যে বিশ্বের ১২ শতাংশ গম, ১৫ শতাংশ ভুট্টা এবং অর্ধেক সূর্যমুখি তেল দেশটির বন্দরগুলো দিয়ে রপ্তানি হতো। কিন্তু রাশিয়ান আক্রমণের ফলে দেশটির ওডেসা, চোরনোমোরস্কসহ অন্যান্য বন্দরগুলো দিয়ে পণ্যদ্রব্য সরবরাহে প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যা বিশ্বব্যাপী মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব রেখেছে।

Back to top button