থ্রিডি-প্রিন্টেড কান পেলেন তরুণী

জন্মের পর দেহের অন্য অঙ্গগুলো বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিকশিত হয়েছে, চলছে স্বাভাবিক গতিতে। শুধু বাড়েনি তাঁর একটি কান। গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গ প্রতিস্থাপনে নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করেও মেলেনি উপযুক্ত সমাধান। কোনো যন্ত্রই ফেরাতে পারছিল না তাঁর চেহারার অকৃত্রিম সৌন্দর্য। অবশেষে তাঁর দৈহিক অপূর্ণতা দূর হয়েছে, পেয়েছেন সুন্দর একটি কান।

অবিশ্বাস্য এই সাফল্য এনে দিয়েছে অত্যাধুনিক থ্রিডি-প্রিন্টিং মেশিন। সফল এই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজটি সেরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রোশিয়া রোগের চিকিৎসায় খ্যাতনামা হাসপাতাল কনজেনিটাল ইয়ার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের। মেক্সিকান তরুণী অ্যালেক্সা জন্মের পর থেকে বিরল মাইক্রোশিয়া রোগে আক্রান্ত। এ জন্য তাঁর একটি কানের সঠিক বিকাশ হয়নি। ২০ বছর বয়সী এই নারীর জন্য কানটি তাঁরই কোষ ব্যবহার করে তৈরি করেছে থ্রিডিবায়ো থেরাপিউটিক্স নামের একটি জৈবপ্রযুক্তিবিষয়ক কোম্পানি।

অঙ্গটি প্রতিস্থাপনে চিকিৎসক দলের নেতৃত্ব দেন শল্যবিদ আর্তুরো বোনিলা। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাবে। থ্রিডি-প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরিতে সাফল্য পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। নতুন কান পেয়ে উল্লসিত অ্যালেক্সা বলেন, এই কানের জন্য এতদিন লোকের কটু কথা শুনতে হতো। এখন আমার পরিপূর্ণ কান আছে, এটা খুবই আনন্দের বিষয়।

থ্রিডিবায়ো থেরাপিউটিক্স রোগীর নিজের কোষ ব্যবহার করে বানানো কানের নাম দিয়েছে ‘অরিনোভো ইয়ার’। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, থ্রিডি-প্রিন্টিং কান অন্য অঙ্গের মতোই স্বাভাবিক গতিতে চলবে। বর্তমানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফুসফুস ও রক্ত কোষ গঠনের বিষয়ে গবেষণা চলছে। ভবিষ্যতে যকৃত ও কিডনির মতো জটিল অঙ্গ তৈরির চেষ্টা করা হবে।

Back to top button