দগ্ধদের চিকিৎসায় ওষুধ সংকট, হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী। এছাড়া দগ্ধ ও আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চার শতাধিক। আহতদের মধ্যে শ্রমিক, পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফলে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে ওষুধ সংকট।

এ অবস্থায় আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে। ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে সকল ডাক্তারদের ছুটি। তবে দেখা দিয়েছে ওষুধ সংকট। এদিকে স্বজন ও রোগীদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে হাসপাতালের পরিবেশ।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান বলেন, এতো রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ওষুধ আমাদের কাছে মজুত নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, পেইন কিলার, স্যালাইন নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর অনুরোধ করছি সবাইকে।

ছুটিতে থাকা সব চিকিৎসক-নার্সকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আশপাশের উপজেলা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক আনা হয়েছে। তারপরেও চিকিৎসা দিয়ে পেরে উঠছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর আহতদের নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আহতদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় জরুরি বিভাগে তাদের নাম তালিকাভুক্ত না করেই আঘাত অনুসারে তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।

চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রাজিব পালিত বলেন, দগ্ধদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। শরীরের বেশিরভাগ জায়গাই পুড়ে গিয়েছে তাদের। চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। ব্লাড ব্যাংক গুলোতে এতো রক্ত নেই। এ জন্য রক্ত চেয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়াও আশপাশের সবাইকে হাসপাতালে এসে রক্ত দিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

Back to top button