ফখরুল ক্ষমা না চাইলে রাজপথে প্রতিহত করা হবে: হানিফ

আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ৭৫ এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার এই স্লোগানের জন্য মির্জা ফখরুলকে জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। আর ক্ষমা না চাইলে জনগণকে সাথে নিয়ে তাদেরকে রাজপথে প্রতিহত করা হবে। হানিফ বলেন, বিএনপি এই স্লোগান দিয়ে স্বীকার করেছে ৭৫ এর হত্যাকাণ্ড তাদের মাধ্যমে হয়েছিল। আজ শনিবার (৪ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ জালাল স্টেডিয়ামে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগে ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় হানিফ আরও বলেন, দেশ আজ দু টি ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ হল স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আর অন্যভাগে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসাবে নেতৃত্বে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ, এর বিপক্ষের শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। তারা একই মায়ের পেটের দুই সন্তান। এটি বিএনপি নেতাদেরই মুখের কথা।

হানিফ বলেন, বাস্তবেও জামায়াতের সৃষ্টি পাকিস্তানের মওদুদীর হাতে এবং বিএনপির সৃষ্টি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে। ৭১ এর পরাজিত শক্তি ৭৫-এ জাতির পিতাকে স্ব-পরিবারে হত্যা করেছিল। এই হত্যায় যারা দৃশ্যমান ছিল তাদের বিচার হয়েছে। কিন্তু নেপথ্যে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে হত্যাকারী জিয়াউর রহমান। সে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ করে বিচারের পথ শুধু বন্ধ করেনি, রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় খুনিদেরকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। জামায়াত ও বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিল। এতেই প্রমাণ হয় জিয়াউর রহমান জাতির পিতার খুনি।

বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনেই জনগণ ক্ষমতার ফায়সালা করবে। আর জনগণ যদি আপনাদেরকে প্রতিহত করে আপনাদের কোন অধিকার নেই দেশের উন্নয়নের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার। উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আমরা আপনাদেরকে উচিৎ শিক্ষা দেব। বিএনপি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আনতে চায় তাহলে আদালতে আপিল করতে পারে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ মোতালিবের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট মো. আবু জাহির এমপি। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, আজিজুস সামাদ ডন ও হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশেনে আব্দুল মোতালিবকে সভাপতি এবং আব্দুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

Back to top button