সহকর্মীদের হারিয়ে স্তব্ধ ফায়ার ফাইটাররা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৯ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক কেমিক্যালপূর্ণ কনটেইনারে বিস্ফোরণ ও পানি স্বল্পতাসহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। এমন ভয়াবহ ঘটনায় ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত ফায়ার ফাইটার কর্মীরা।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা এবং সদ্য হারানো সহকর্মীদের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন সাফার কর্মী সোহেল। সোহেল জানান, তিনি সহকর্মীদের হারিয়েছেন। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন তারা।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, ডিপো এলাকায় পানির স্বল্পতা রয়েছে। কনটেইনারের কাছাকাছি যেয়ে আগুন নেভানোও যাচ্ছে না। দূর থেকে পাইপ দিয়ে পানি দেয়া হচ্ছে। শুরুতে কাছাকাছি গিয়ে আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল বাহিনীর অসংখ্য সদস্য আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ডিপোতে এসময় প্রায় ৫০ হাজার কনটেইনার ছিল। সেখানে থাকা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। শনিবার দিনগত রাতে বাতাসের কারণে আগু’ন বাড়তে থাকে। ডিপো এলাকায় রয়েছে পানি স্বল্পতা। গতকাল শনিবার রাতে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বি’স্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোবাবর (৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৯ কর্মীসহ ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৫ জুন) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন বলেন, ‘কনটেইনারগুলো সরানো হচ্ছে, হয়তো কিচ্ছুক্ষণের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের যে সক্ষমতা রয়েছে তা দিয়ে রাত ১০টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে বলে আশা করছি। অন্ধকার হয়ে গেলে এখানে লাইটার দিয়ে আলোকিত করা হবে। আশা করছি এখান থেকে আর কোনো আহত বা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটবে না।’

সোনালীনিউজ/আইএ

Back to top button