সীতাকুণ্ড ট্রাজেডি : মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি

সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে কতজন মারা গেছেন সে বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল কৃর্তপক্ষ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। মৃতের সংখ্যা একেক সংস্থা একেকটা উল্লেখ করছে। ফলে মৃতের সংখ্যা নিয়ে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। প্রশ্ন হচ্ছে, আসলে নিহতের সংখ্যা কত?

অধিকাংশ গণমাধ্যম বিস্ফোরণে নিহত উল্লেখ করেছে ৪৯ জন। এই তথ্য চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয় গতকাল রোববার। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, নিহতের সংখ্যা ৪৯ জন। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জানান, নিহত মানুষের সংখ্যা ৪৫। কিছুক্ষণ পর একজন বাড়িয়ে নিহত ৪৬ জন উল্লেখ করেন তিনি। রাতে আবার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।

গত শনিবার সন্ধ্যায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হচ্ছিল। সেখানে নিহত মানুষের হিসাব সংরক্ষণ করছিল চমেক হাসপাতাল পুলিশ এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা। এদিকে, আজ সোমবার সকালে ঘটনাস্থল সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, আমরা নিহত ৪১ জনের লাশ পেয়েছি। যেগুলো পরে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার এই সংখ্যার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় চমেক হাসপাতালের তথ্যের সঙ্গে।

আজ সকালে চমেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামিম আহসান বলেন, আমরা গত তিনদিনে ৪১টি লাশ গ্রহণ করেছি। লাশের ময়নাতদন্ত শেষ করেছি ১৮টির। আর ১১টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ জনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তাদের ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা চলছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর মধ্যেও তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকরা চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামিম আহসানকে লাশের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব লাশ গ্রহণ করেছি সেগুলোর হিসেবে ৪১ জন। ’ এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর। তখন লাশের বিভ্রান্তকর তথ্য নিয়ে তারা কোন কথা বলেননি। এদিকে, সীতাকুণ্ড থানার ওসিও নিহতের সংখ্যা ৪১ জন উল্লেখ করেছেন। তাহলে চমেক হাসপাতাল ছাড়া অন্য আরও অনেক হাসপাতালে নিহতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেগুলোর হিসাব দিতে পারেনি কেউ। ফলে মৃতের সংখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছে ধোঁয়াশা।

গত তিনদিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অন্যান্য হাসপাতালে লাশের তথ্য সংগ্রহ করছেন জেলা পুলিশের এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার। তিনি বলেন, মৃতের সংখ্যা ৪৯ জন হবে। এরপরও এটা নিয়ে সবাইকে বিস্তারিত জানানো উচিত। তাহলে বিভ্রান্তি থাকবে না। উল্লেখ্য, প্রশাসন থেকে কতজন আহত হয়েছেন সেটার যেমন নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তেমনি কতজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে তারও হিসাব নেই। এ ছাড়া এখনো এই ঘটনায় মামলা হয়নি।

গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর ভেতরে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল আশপাশের প্রায় আড়াই বর্গকিলোমিটার এলাকা। ওই বিস্ফোরণ ও আগুনে পুড়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৯ জনই ফায়ার সার্ভিসের সদস্য। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবহন শ্রমিকেরা। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যসহ দুই শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী। এর মধ্যে পুলিশের এক সদস্যের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

Back to top button