ফাঁদে এবার জাহাঙ্গীর অনুসারীরা

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের পরও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় ক্ষমতাসীন দলের দুই শতাধিক নেতাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না হলে গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারা অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়াও হয়েছে।

যাদেরকে এই নোটিশ দেয়া হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী। শতাধিক নেতাকে কারণ দর্শিয়ে নোটিশে জানানো হয়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় ১১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির রিপোর্টে নোটিশ প্রাপ্তদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়।

নোটিশে বলা হয়েছে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে জাহাঙ্গীর আলমকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক শোকজ ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের পরও দলীয় কিছু নেতাকর্মী শৃঙ্খলাভঙ্গ করে প্রকাশ্যে ও গোপনে তার সাথে সভা-সমাবেশে দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। যা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল।’

গত ১ জুন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্যাহ মন্ডলের সেই করা নোটিশ যারা পেয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের ১নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নয়ন, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোকসেদ আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান মুজিব, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং ১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম, সিটি কাউন্সিলর আজিজুর রহমান শিরিশ, টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান তরুন, দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন মিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আক্কাছ আলী।

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আতাউল্যাহ মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে। জবাব সন্তাষজনক না হলে শাস্তি পেতে হবে। তবে সিদ্ধান্ত দলীয় সভায় হবে।’

সোনালীনিউজ/আইএ

Back to top button