কর্মীর কবজি কর্তনের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ নেতাকে অব্যাহতি

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় কর্মীর হাতের কবজি কর্তনের অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল হামিদ সাকিদারের বিরুদ্ধে। আহত আওয়ামী লীগ কর্মী হোসেন হাওলাদার সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বাছারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার (৪ জুন) আব্দুল হামিদ সাকিদারকে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে।

পদ্মা সেতু হওয়ায় বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে: মির্জা আজমপদ্মা সেতু হওয়ায় বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে: মির্জা আজম
জানা যায়, শুক্রবার (৩ জুন) গভীর রাতে ওই কর্মীর কবজি কর্তন করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতে আহত হোসেনের স্ত্রী লাইলী বেগম বাদী হয়ে বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারসহ ১০ জনকে আসামি করে পালং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

আহত হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী ও মামলাসূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কুদ্দুস মুন্সী ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার খানের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় প্রায় এক সপ্তাহ আগে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের সমর্থকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী আহত হয়। আহত অনেকেই শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ কর্মী হোসেন হাওলাদার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রোগী দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বাছারকান্দি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের নির্দেশে তার বাহিনী হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এসময় হামলাকারীরা হোসেন ডান হাতের কবজি কেটে ফেলে এবং কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাস্থলে তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পদ্মা সেতু দিয়ে ২১ জেলায় যুক্ত হবে বিলাসবহুল পরিবহনপদ্মা সেতু দিয়ে ২১ জেলায় যুক্ত হবে বিলাসবহুল পরিবহন
পরে তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এ ব্যাপারে আহত হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী লাইলী বেগম বলেন, বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের হুকুমে তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ডান হাতের কবজি কেটে নিয়েছে। হামিদ সাকিদারসহ সকল আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি।

অপরদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে পালং থানার ওসি মো. আক্তার হোসেন বলেন, এ ঘটনার মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম

Back to top button