সেভারোদোনেতস্কে তুমুল যুদ্ধ, সব অভিযান বন্ধ করে এই শহর দখলে মরিয়া রাশিয়া

যে কোনো উপায়েই হোক সেভারোদোনেতস্ক দখল করতে চায় রাশিয়া। এ জন্য অন্য সব দিকে অভিযান স্থগিত রেখে শুধু এই শহর দখলে মনোযোগ দিয়েছে দেশটি। ইউক্রেনও নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সেভারোদোনেতস্কের পতন ঠেকিয়ে রাখছে। তবে রুশ বাহিনীর সামনে টিকে থাকতে হিমসিম খাচ্ছে তারা। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, ইউক্রেনীয় বাহিনী এরইমধ্যে আত্মসমর্পন না করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। সেভারোদোনেতস্ক ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শহর।

এটি দখলে এলেই ডনবাসের প্রায় পুরোটাই রাশিয়ার অধীনে চলে আসবে। তবে সেখানকার গভর্নর সেরহি হাইদাই বলছেন, অবস্থা যাই হোক সেভারোদোনেতস্কে ইউক্রেনিয়ানরা আত্মসমর্পণ করবে না। রাশিয়া এখন তাদের আর সব জায়গার অভিযান বন্ধ করে কেবলমাত্র সেভারোদোনেতস্কের লড়াইয়ের দিকে জোর দিচ্ছে। রুশরা তাদের গোলা এবং রকেট হামলা আরও বাড়াবে বলে তিনি আশংকা করেন। এছাড়া আরও বড় অভিযান চালাবে রাশিয়া সেই আশঙ্কাও রয়েছে।

সেক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনী পিছু হটে অন্য কোথাও শক্ত অবস্থান নেবে। তারপরেও আত্মসমর্পণ করবে না। রাশিয়া গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করছে। এরইমধ্যে শহরের বেশিরভাগ এলাকার দখলও নিয়েছে মস্কো।এদিকে মারিউপোলের আজভস্টাল ইস্পাত কারখানা থেকে আত্মসমর্পণ করা এক হাজারের বেশি ইউক্রেনিয় যোদ্ধাকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাশিয়ার গণমাধ্যমের খবরে তাই বলা হয়েছে। ওই ইউক্রেনীয় সৈন্য এবং যোদ্ধারা প্রায় দুমাস ধরে মারিউপোলে রুশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। ইউক্রেন এই যোদ্ধাদের জাতীয় বীর বলে ঘোষণা করেছে। যদিও রাশিয়ায় তাদের দেখা হয় ভিন্ন দৃষ্টিতে।

আজভ যোদ্ধাদের নাৎসিপন্থী মনে করে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় অন্য সেনাদের বন্দী বিনিময়ের অধীনে ছাড়তে রাজি হলেও রুশ রাজনীতিকরা এই আজভ যোদ্ধাদের যুদ্ধবন্দীর মর্যাদা দিতে চান না। তারা তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গণ্য করে শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের শহর খেরসনও দখলে নিয়েছে যুদ্ধের প্রথম দিকেই। এবার এই বন্দর শহরটিকে নিজেদের অংশ করতে চায় রাশিয়া। এ জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির কর্মকর্তারা। রুশ নিযুক্ত প্রশাসনের ডেপুটি প্রধান সের্গেই কিরিয়েংকো বলেছেন, ক্রাইমিয়াকে যেভাবে রাশিয়ার অংশ করা হয়েছে, খেরসন অঞ্চলকেও সেভাবে পুরোপুরি রাশিয়ার অংশ করা হবে। সেখানে রুশ পাসপোর্ট দেয়ার কাজও শীঘ্রই শুরু হবে। যারাই পাসপোর্ট চায়, তাদেরকেই দেয়া হবে।

Back to top button