জীবিতদের মৃত দেখিয়ে এতিমখানার অর্থ আত্মসাৎ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্রদের জীবিত মা-বাবাকে মৃত দেখিয়ে এতিমখানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা ইউএনওসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাজপুর ভিলেজার পাড়াস্থ ইসলামিয়া হেফজখানা ও এতিমখানায় বুধবার বেলা ১১টায় সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান।

জানা যায়, গত ২০০৫ সালে ৫ শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির উদ্যোগে নিজস্ব ডপঅর্থায়নে সুরাজপুর ইসলামিয়া হেফজখানা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ২০১৪ সালে নিবন্ধিত হয়। পরে হেফজখানা মাদ্রাসার ছাত্রদের এতিমখানার ছাত্র দেখিয়ে পিতামাতা জীবিত থাকা স্বত্ত্বেও ৬৪ ছাত্রকে স্থানীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক এতিম দেখিয়ে বিগত ৭ বছর ধরে সরকারি ক্যাপিটেশনের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, পরিষদের প্যাডে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে একটি দুষ্টচক্র এই কাজটি করেছে। এই বিষয়ে স্বাক্ষর জালকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান বলেন, আমাকেসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়।

তদন্তকালে পূর্বের তালিকার ক্যাপিটেশন পাওয়া ৬৪ জনের মধ্যে একজন এতিম ছাত্রও উপস্থিত পাওয়া যায়নি। তাছাড়া তদন্তকালে উপস্থিত ৮৬ জন ছাত্রের মধ্যে যাদেরকে এতিম দেখানো হয়েছে তাদের অভিভাবকরাও (পিতা) উপস্থিত হয়ে এতিম নয় মর্মে প্রতিবাদ করেন। তাই ওই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Back to top button