আমদানির ঘোষণায় কমেছে চালের দাম

দিনাজপুরের পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা কমেছে। শহরের চালের বড় মার্কেট বাহাদুর বাজার, চকবাজার ও রেলবাজারে সব ধরনের চাল ৫০ কেজি প্রতিবস্তায় ১শ টাকা কমেছে। হঠাৎ করে দাম কমে আসার কারণ হিসেবে চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন সরকার চাল আমদানির ঘোষণা দেওয়ার পর কমতে শুরু করেছে চালের দাম। তবে এখনো খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি।

বর্তমানে বাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি মিনিকেট ৬৬ টাকা, ২৯ চাল ৫৪ টাকা, ২৮ চাল ৫৭ টাকা, গুটিস্বর্ণ ৩৮ টাকা, সুমন স্বর্ণ ৪০ টাকা অন্যদিকে দিকে মিল গেটে প্রতিবস্তা ( ৫০ কেজি) স্বর্ণ ২৪৫০ টাকা , মিনিকেট ৩৩৫০ টাকা, বিআর ২৮ চাল ৩ হাজার টাকা।

ইতিপূর্বে ২০ দিন ধরে দিনাজপুরের চালের বাজারে প্রতিদিন কোনো না কোনো অজুহাতে বস্তা এবং কেজিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ানো হয়েছে দাম। পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকার পরও প্রকারভেদে সব ধরনের চাল কেজিতে ৫ থেকে ৯ টাকা বেড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বাহাদুর বাজার ও চকবাজারের পাইকারি বিক্রেতা প্রশান্ত ও কার্তিক কু-ু বলছেন, মিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী চাল পাওয়া যাচ্ছিল না কিন্তু চাল আমদানির ঘোষণায় এখন মিলাররা চাল দিচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী সরকারের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন।

এদিকে মিলার ও চাল ব্যবসায়ীদের কাছে প্রচুর ধান চাল মজুদ থাকার পরও চালের দাম বৃদ্বি পাওয়ায় সম্প্রতি ধান চাল অবৈধ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ মাঠে কাজ শুরু করেছে। কয়েক দিন আগে সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ ও কসবা এলাকা ২টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্তুজা আল মুঈদের নেতৃত্বে বৈধ কাগজ না থাকায় ৫ হাজার ৫৩০ টন

আতপ চাল জব্দ করা হয়। অন্য দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিরামপুর এবং হাকিমপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে চাল মজুদ করায় ৬ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মুসাদ্দেক হুসেইন চাল মজুদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ট্রেড লাইসেন্স বা লাইসেন্স ছাড়াই অনেকে ধান চাল মজুদ করে অধিক মুনাফার আশায়। তাদের রোধ করতে পারলে সমস্যা থাকবে না বলে জানান।

দিনাজপুরে অটোমেটিক, হটফ্লু, মেজর রাইস মিল ও হাসকিং মিল রয়েছে ২ হাজার ২শ। শহরের পুলহাট শিল্প এলাকা থেকে গড়ে প্রতিদিন ২ শতাধিক ট্রাক চাল নিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা যায়।

Back to top button