ইউক্রেনের যুদ্ধজয়ের আশা শেষ হয়ে আসছে

ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উপ-প্রধান ভাদিম স্কিবিতস্কি মনে করেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধজয়ের আশা শেষ হয়ে আসছে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার নির্ভুল ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রও শেষের পথে।

দেশটি একই গতিতে এক বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। তবে রাশিয়াকে ঠেকিয়ে রাখতে ইউক্রেনকে পশ্চিমা অস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফুরিয়ে আসছে সেসব অস্ত্রের মজুতও। তাই রাশিয়ার অস্ত্র শেষ হওয়ার আগেই হারতে হবে ইউক্রেনকে।

সাক্ষাৎকারে ভাদিম বলেন, এটি এখন মূলত একটি কামান যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। এখন আমরা যে রণক্ষেত্রে রয়েছি তা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং কামানের নিরিখে আমরা হেরে যাচ্ছি। কারণ, আমাদের কামানের গোলাবারুদ শেষ হয়ে আসছে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে পশ্চিমারা আমাদের কী দিচ্ছে তার ওপর। ইউক্রেনের একটি কামানের বিপরীতের রাশিয়ার রয়েছে ১০ থেকে ১৫টি।

এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলছেন, রাশিয়ার যা আছে, তার মাত্র ১০ শতাংশ ইউক্রেনকে দিয়েছে পশ্চিমা অংশীদাররা। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার কামানের গোলা ব্যবহার করছে ইউক্রেন। আমরা আমাদের কামানের গোলা প্রায় সব শেষ করে ফেলেছি। এখন আমরা ১৫৫-ক্যালিবার শেল ব্যবহার করছি।

তিনি আরও বলছেন, গত মে মাসে উত্তর-পূর্ব ইউক্রেন ও খারকিভের আশেপাশে ইউক্রেন পাল্টা আক্রমণ করে বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম থেকে রুশ সেনাদের সরিয়ে দেওয়ার পরে রাশিয়ান বাহিনী প্রতিরক্ষায় মনোনিবেশ করছে। জাপোরিঝিয়া এবং খেরসন হলো দুটি দক্ষিণ ইউক্রেনীয় অঞ্চল, যা রাশিয়া প্রায় সম্পূর্ণভাবে দখল করেছে।

ভাদিম বলছেন, যদি রাশিয়া ডনবাসে সফল হয়, তবে তারা এই অঞ্চলগুলোর সফলতা ওডেসা আক্রমণে ব্যবহার করতে পারে। তাদের লক্ষ্য পুরো ইউক্রেন এবং আরও অনেক কিছু। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দারা বিশ্বাস করে যে, রাশিয়া আরও অস্ত্র তৈরি না করেও আরও এক বছরের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।

Back to top button