বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনতে পারে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া বাসায় থাকার অধিকার পেয়েছেন। তার চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো বাধা নেই। বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনতে পারে বিএনপি। শনিবার আওয়ামী লীগের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিবের এক বক্তব্যের জবাবে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সরকার কেন দায়িত্ব নেবে? মির্জা ফখরুলের আন্দোলনে কি তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্ত আছেন? এটা শেখ হাসিনার উদারতা, মানবিকতা। এজন্যই খালেদা জিয়া মুক্ত ও বাসায় থাকার অধিকার পেয়েছেন। তার চিকিৎসায় বিএনপির এত যদি ইচ্ছা হয় তাহলে দেশের বাইরে থেকে তারা চিকিৎসক আনুক। এতে তো অসুবিধা নেই। তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয় সবকিছু দেখভাল করছে, ফলে তারাই ভালো বলতে পারবে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, ড. আবদুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুযোগ দিয়েছি সুফল না এলে উঠিয়ে নেব : পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে নতুন অর্থবছরের বাজেটে যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা নিয়ে বিএনপির সমালোচনাকে দলটির ‘ডাবল স্টান্ডার্ড (দ্বিচারিতা, অসম নীতি)’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নির্ধারিত কর দিয়ে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার ঘোষণায় পাচারকারীরা আরও উৎসাহিত হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ঠিক সেইভাবে দেখলে হবে না। দেশের অনেক টাকা পাচার হয়ে গেছে। অন্যসব দেশেও এই ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়। আমরা সেই সুযোগটা দিচ্ছি। আমরা দেখি, এ সুযোগের সুফল না এলে আমরা সুযোগটা উঠিয়ে নেব। আমরা সুফলও পেতে পারি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলসহ দেশের একটি চিহ্নিত মহল ক্রমাগত বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন। তাদের বক্তব্য যদি সত্য হিসাবেই ধরে নিই, তাহলে সাত শতাংশ করদানের মাধ্যমে কেউ টাকা দেশে নিয়ে আসে তাহলে মির্জা ফখরুলদের খুশি হওয়ার কথা। এখন কেন তারা অভিযোগ করছেন? অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলবেন, আর যখন টাকা ফেরত আনার উদ্যোগ নেব, তখনও অভিযোগ করবেন, সেটা তো আপনাদের ডাবল স্টান্ডার্ড, দ্বিচারিতা।

ক্ষমতায় থাকাকালে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুইবার কালোটাকা সাদা করেছেন বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জানে কারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে। পাচারকারী হিসাবে আপনাদের (বিএনপি) বিশ্বরেকর্ড।

খালেদা জিয়ার নাম আওয়ামী লীগ নেতারা সম্মানের সঙ্গে উচ্চারণ করেন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা উচ্চারণ করি বেগম খালেদা জিয়া।’ কিন্তু তারা (বিএনপি) বলে-‘হাসিনা। তুই।’ পঁচাত্তরের কথা বলে তারা হত্যার হুমকি দেয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কখনো খালেদা জিয়াকে রাস্তার ভাষায় সম্বোধন করি না। তারা রাস্তার ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালগাল করে।

বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট : প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট বলে উল্লেখ করেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস পরবর্তী প্রেক্ষাপট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়-প্রস্তাবিত বাজেট সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির বাস্তবতায় পৌনে সাত লাখ কোটি টাকার এ বাজেট শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জিত বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতার প্রতিফলন।

শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দেড় দশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৩৯ শতংশ, প্রতিবেশী দেশ ভারতে ৭.৮ শতাংশ এবং বিশ্বের অন্য অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপর, সেখানে প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি হার শতকরা মাত্র ৫.৬ শতাংশ। এ অর্থবছরে দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় তিন হাজার নয় মার্কিন ডলার দাঁড়াবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশে মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় রাখতে বাজেটে ৮৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না-প্রধানমন্ত্রী সেটা বলেছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছেন। কথায় কথায় চলে যাবে, যার ইচ্ছা (বিদেশ) চলে যাবে, এটা মন্ত্রী হোক, কর্মকর্তা হোক, কারও ব্যাপারে আর উৎসাহিত করা হবে না।

Back to top button