পদ্মাপাড়ে সাজ সাজ পদ্মা

আর মাত্র ১২ দিন বাকি। খুলে যাবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। দেশের মহা অর্জনের এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সেতুর পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় এখন সাজ সাজ রব। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পদ্মাপাড়সহ দক্ষিণাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ । গতকাল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আয়োজনে সাংবাদিকদের সরজমিন নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো পদ্মা সেতু এলাকায়। সেখানেই সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি জানিয়েছেন, সেতু বাস্তবায়নের নানা প্রতিবন্ধকতার কথা। তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহসিকতার বিষয়। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অসীম সাহসের সোনালি ফসল।

এখানে অন্যদের কারও অবদান নেই। আমরা শেখ হাসিনার আদেশ, নির্দেশ পালন করেছি নিষ্ঠার সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু কন্যা এই সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ দুর্নীতি করে না। তিনি বলেন, এই সেতু শেখ হাসিনার স্বপ্নের সেতু। এই সেতু আমাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতার সেতু।এই সেতু একদিকে সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক, অন্যদিকে আমাদের যে অপমান করা হয়েছে তার প্রতিশোধের সেতু। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে জোর গলায় বলেছিলেন, আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করবো। সেদিন আমাদের আশেপাশে যারা ছিল তারা অনেকেই বিদ্রূপ করেছে।

এটা কি সম্ভব? বিশ্বব্যাংক ছাড়া সম্ভব? আমাকে বলেছে-কি মন্ত্রী কি ধরনের পরামর্শ দিচ্ছো, এটা কি হবে? বিশ্বব্যাংক আমাদের মন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ যারা সংশ্লিষ্ট ছিল তাদের গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিল। আমাদের জননেত্রী তখন অনড় ছিলেন। তিনি বলেছেন, আমাদের টাকায় একটা পদ্মা সেতু করতে পারবো না! পারবো। আজকে তার বাস্তব রূপ নিয়েছে। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি আমরাও পারি। তিনি বলেন, যতই সমালোচনা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে আমাদের মনোবল ততই সুদৃঢ় হয়েছে। কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। বিশ্বব্যাংক আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। যখন তারা ক্ষমা চায় ততদিনে আমাদের সেতুর কাজ শুরু করে দিয়েছি।

তিনি জানান, ২৬ তারিখ সকাল ৬টা থেকে সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে। পদ্মা সেতুর স্থায়িত্ব ধরা হয়েছে ১০০ বছর। এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে অন্তর্ঘাতমূলক আশঙ্কা রয়েছে। গোয়েন্দাদের হাতে কিছু খবর আছে। এই নিয়ে আমাদের আগেও আশঙ্কা ছিল এখনো আছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে মন্ত্রী বলেন, ২৫শে জুন সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে সুধী সমাবেশ করা হবে। এখানে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করা হবে। ১১টার পর শেখ হাসিনা ছয় মিনিটে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে ওপারে আরেকটি ফলক উন্মোচন করবেন। তারপর কাঠালবাড়ীতে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন। এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশ্বব্যাংক, ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস, খালেদা জিয়াসহ সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা এরকমই নির্দেশ দিয়েছেন। ২১ জেলার গাড়ি ৬ মিনিটে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ঢুকলে রাজধানীতে যানজট বাড়বে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে সংশয় ছিল। সেটা হয়েছে। যানজটও আমরা জয় করতে পারবো। এক প্রশ্নের জবাবে সেতু সচিব মো. মনজুর হোসেন বলেন, একটা সময় টোল আদায় হবে অটোমেটিক সিস্টেমে। যারা কার্ড করবে তারা সরাসরি চলে যেতে পারবে। তবে এটা করতে একটু সময় লাগবে। এখন নগদ টাকায় টোল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার, সাখাওয়াত হোসেন মুন প্রমুখ।

Back to top button